সংকটাপন্ন ব্যাংকে আটকে পদ্মা অয়েলের ১৯৩ কোটি টাকার এফডিআর

সময়: সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১১:৫৪:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পদ্মা অয়েল লিমিটেডের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখা প্রায় ১৯৩ কোটি টাকা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে কোম্পানিটির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পরবর্তীতে একীভূতকরণের আওতায় আসায় এসব এফডিআর থেকে অর্থ পুনরুদ্ধার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের প্রভাবাধীন হয়ে সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংকে এই অর্থ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকে ৮১ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকে ৫৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৩৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা আমানত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা ও উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দেখা দেওয়ায় এফডিআর ভেঙে অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠালেও নগদ অর্থের সংকটের কারণে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে নিরীক্ষকরা এই অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে উচ্চ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুযায়ী সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি কোম্পানির আর্থিক হিসাবে প্রতিফলিত করার সুপারিশও করেছেন নিরীক্ষকরা।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের কোম্পানি সচিব আলী আবসার বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে নতুন কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নতুন সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা অয়েল লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে মোট শেয়ারের ৪৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged