অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ওষুধ খাতের ১৯ কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে

সময়: বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬ ৪:০০:০১ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি: শেয়ারবাজারের ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে অক্টোবর-ডিসেম্বর’২৫ প্রান্তিকের (দ্বিতীয় প্রান্তিক) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ২৯টি প্রতিষ্ঠান। প্রকাশিত এই প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলোচ্য প্রান্তিকে ১৯টি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ৬টি কোম্পানির আয় কমেছে এবং ৫টি কোম্পানি টানা লোকসানের মুখে রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আয় বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকা দীর্ঘ। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই), এসিআই ফরমুলেশন, একমি ল্যাবরেটরিজ, এমবি ফার্মা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইবনে সিনা, ইন্দোবাংলা ফার্মা, কোহিনূর কেমিক্যাল, ম্যারিকো বাংলাদেশ, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন, ফার্মা এইডস, রেনেটা, সালভো অর্গানিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সিলকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ওয়াটা কেমিক্যালস।

প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রান্তিকভিত্তিক আয়ের চিত্র পর্যালোচনা করা হলো:

অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই): দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৩৪ পয়সা আয় (ইপিএস) করেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৩ টাকা ১৭ পয়সা। অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর) আয় দাঁড়িয়েছে ৭৩ পয়সায়, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ৯৯ পয়সা লোকসান।

এসিআই ফরমুলেশন: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়ে ৪ টাকা ৬৪ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৪ টাকা ৪০ পয়সা)। তবে অর্ধবার্ষিকে আয় কিছুটা কমে ৬ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে, আগের বছর যা ছিল ৬ টাকা ৭৫ পয়সা।

একমি ল্যাবরেটরিজ: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৩ টাকা ১০ পয়সা (আগের বছর ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ৬ টাকা ১১ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা)।

এমবি ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১ টাকা ৩৬ পয়সা (আগের বছর ছিল ৬২ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ১ টাকা ৮৬ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা)।

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১ টাকা ৩৪ পয়সা (আগের বছর ছিল ৭২ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ২ টাকা ৫৮ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৯৬ পয়সা)।

বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ২ টাকা ৪৭ পয়সা (আগের বছর ছিল ১ টাকা ৯১ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৩ টাকা ৪৭ পয়সা)।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৪ টাকা ১০ পয়সা (আগের বছর ছিল ৩ টাকা ২১ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ৭ টাকা ৮৭ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৬ টাকা ৬৯ পয়সা)।

ইবনে সিনা: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৮ টাকা ২০ পয়সা (আগের বছর ছিল ৬ টাকা ৭৫ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ১৫ টাকা ২৭ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৯ টাকা ৪৭ পয়সা)।

ইন্দোবাংলা ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ পয়সা আয় হয়েছে (আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৫ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে ইপিএস ২ পয়সা (আগের বছর ছিল ৮ পয়সা লোকসান)।

কোহিনূর কেমিক্যাল: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৪ টাকা (আগের বছর ছিল ৩ টাকা ১৮ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ৮ টাকা ১০ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৬ টাকা ২৫ পয়সা)।

ম্যারিকো বাংলাদেশ: কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রান্তিকে ইপিএস বেড়ে ৪৭ টাকা ৫৭ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৪৪ টাকা ৩৪ পয়সা)। ৯ মাসে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫৮ টাকা ৯ পয়সায় (আগের বছর ছিল ১৪৫ টাকা ৬৫ পয়সা)।

নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১ টাকা ৬৫ পয়সা (আগের বছর ছিল ১ টাকা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ২ টাকা ২৫ পয়সা)।

ওরিয়ন ইনফিউশন: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৫৮ পয়সা (আগের বছর ছিল ৪৯ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ১ টাকা ১৫ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ১ টাকা ৩ পয়সা)।

ফার্মা এইডস: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৭ টাকা ২৮ পয়সা (আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৬৬ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ১৪ টাকা ৯ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ১১ টাকা ৩২ পয়সা)।

রেনেটা: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৭ টাকা ১১ পয়সা (আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৬৪ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ১৩ টাকা ৫৮ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ১০ টাকা ৮৩ পয়সা)।

সালভো অর্গানিক ইন্ডাস্ট্রিজ: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১১ পয়সা (আগের বছর ছিল ৯ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ২৫ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ২২ পয়সা)।

সিলকো ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১১ পয়সা (আগের বছর ছিল ১০ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় অপরিবর্তিত ২৭ পয়সা (আগের বছরও ২৭ পয়সা)।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ৮ টাকা ২০ পয়সা (আগের বছর ছিল ৭ টাকা ৪৫ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ১৬ টাকা ৫৬ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ১৪ টাকা ৩২ পয়সা)।

ওয়াটা কেমিক্যালস: দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১৩ পয়সা (আগের বছর ছিল ১১ পয়সা)। অর্ধবার্ষিকে আয় বেড়ে ৮০ পয়সা হয়েছে (আগের বছর ছিল ৪২ পয়সা)।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged