বিনিয়োগকারীদের স্বপ্নভঙ্গ: খেলাপি ঋণের কারণে ইয়াকিন পলিমারের শেয়ার হস্তান্তর বাতিল

সময়: সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬ ৪:১৯:২৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে না পারায় ইয়াকিন পলিমার লিমিটেডের স্পন্সর-পরিচালকদের শেয়ার অধিগ্রহণের প্রস্তাব বাতিল করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটির প্রায় ৫২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণই মালিকানা পরিবর্তনের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ইয়াকিন পলিমারের স্পন্সর-পরিচালকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনার জন্য এফসিএস হোল্ডিংস লিমিটেড কমিশনের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল। কিন্তু আবেদনটি পর্যালোচনাকালে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির (আইআইডিএফসি) কাছে কোম্পানিটির বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের আগে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনাপত্তিপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জোগাড় করতে পারেনি আবেদনকারীরা। ফলে বাধ্য হয়ে প্রস্তাবটি বাতিল করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তবে বিষয়টি পুরোপুরি বন্ধ করেনি বিএসইসি। প্রয়োজনীয় এনওসি সংগ্রহ করে নতুন করে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রেখেছে তারা। ইয়াকিন পলিমারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, আইআইডিএফসি থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে তারা ইতোমধ্যে এনওসি পেয়েছেন। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের ৪৩ কোটি টাকার ঋণের জন্য এনওসি এখনও মেলেনি। ব্যাংকটি ঋণ আদায়ের বিষয়টি মূল্যায়ন করছে বলে তিনি জানান এবং আশা প্রকাশ করেন শিগগিরই প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র হাতে পাবেন তারা। বাকি এনওসি পেলেই দ্রুত কমিশনে নতুন আবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইয়াকিন পলিমারের চেয়ারম্যান চাকলাদার রেজাউল আলম, পরিচালক কপিটা প্যাকেজিং সল্যুশনস লিমিটেড এবং পরিচালক দিদারুল আলমের কাছ থেকে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৩টি শেয়ার (কোম্পানির মোট শেয়ারের প্রায় ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ) কিনতে চেয়েছিল এফসিএস হোল্ডিংস। মজার বিষয় হলো, এফসিএস হোল্ডিংস সরাসরি নগদ অর্থ পরিশোধ না করে কোম্পানির কিছু আর্থিক দায়, যেমন ব্যাংক ঋণ ও সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এটি ছিল আর্থিক সংকটে থাকা কোম্পানিটির পুনর্গঠনেরই অংশ।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এফসিএস হোল্ডিংস কোম্পানির বড় শেয়ারধারী হয়ে ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারত এবং পরিচালনা পর্ষদেও তাদের প্রতিনিধিরা যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক ঋণের বিপরীতে বন্ধক থাকা শেয়ার হস্তান্তরে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র অপরিহার্য। তাই নিয়ম না মেনে কমিশনের অনুমোদন পাওয়া সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল ইয়াকিন পলিমার। কিন্তু পাটের বস্তার প্রতি সরকারি উৎসাহ ও অন্যান্য কারণে পলিমার ব্যাগের চাহিদা কমে গেলে কোম্পানিটি ব্যবসায়িক সংকটে পড়ে। আইপিওর পর মাত্র একবার ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে পেরেছে তারা। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক দুর্বলতা ও শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

এফসিএস হোল্ডিংসের সম্ভাব্য অধিগ্রহণ পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় সেই স্বপ্ন আপাতত অনিশ্চয়তার গহ্বরে।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged