রূপালী ইন্স্যুরেন্সের ১১ পরিচালক ও সিইওকে ক্রেডিট রেটিং বিধি লঙ্ঘনের দণ্ড দিয়েছে বিএসইসি

সময়: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১২:৩৪:২০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্রেডিট রেটিং সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগে রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১১ জন পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গত মার্চ মাসে কার্যকর করা হয়েছে।

বিএসইসির সর্বশেষ মাসিক এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টে জানানো হয়েছে, রেটিং বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কমিশন বাজার সংশ্লিষ্টদের কাছে কড়া বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, আলী আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুস, কাজী মনিরুজ্জামান, কে এম ফারুক, আবু হেনা, শাওন আহমেদ, ওবায়দুল হক, মোস্তফা কামরুস সোবহান, ফজলুতুন নেসা এবং সিইও ফাওজিয়া কামরুন তানিয়া। উল্লেখ্য, সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রয়াত হয়েছেন।

বিএসইসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিজ) রুলস, ২০২২’ এবং ক্রেডিট রেটিং প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি করেছে। মূলত ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল) সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে সময়সীমা ও দায়িত্ব নির্ধারণে অস্পষ্টতা ছিল।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে পরবর্তী বছরের সার্ভেইল্যান্স রেটিং করার জন্য সিআরআইএসএল-এর সঙ্গে কোম্পানির চুক্তি ছিল। ২০২০ সাল পর্যন্ত রেটিং সম্পন্ন হলেও ২০২২ সালের নভেম্বরে পূর্ববর্তী চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করা হয়, যা বিদ্যমান আইন ভঙ্গের সমতুল্য।

বিধি অনুযায়ী, একবার রেটিং চুক্তি সম্পাদিত হলে তা প্রাথমিক রেটিং এবং পরবর্তী তিনটি সার্ভেইল্যান্স রেটিং পর্যন্ত বহাল থাকতে হবে। বিএসইসির অনুমতি বা আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ছাড়া নতুন কোনো রেটিং এজেন্সি নিযুক্ত করা আইনগত লঙ্ঘন।

শুনানির সময় রূপালী ইন্স্যুরেন্স দাবি করেছিল, পূর্ববর্তী এজেন্সির চুক্তি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি করা হয়েছে। তবে কমিশন এই যুক্তি গ্রহণ করেনি এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে বিএসইসির এই ধরনের পদক্ষেপ কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও রেটিং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও লাভজনক হবে।

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged