গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেন: এনবিএল সিকিউরিটিজে বিএসইসির শাস্তি

সময়: রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬ ৯:৫৭:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্রোকারেজ হাউজ এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোট ২১ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডিএসই ও সিএসইর সদস্য এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের ক্রয়-বিক্রয় নির্দেশ সংরক্ষণে ব্যর্থতা, অনুমোদন ছাড়া লেনদেন সম্পাদন, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব এবং পেশাগত অসদাচরণের মতো অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব অনিয়মের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিএসইসি সূত্র জানায়, সৈয়দ আবু সালেহ নামে এক বিনিয়োগকারীর অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেওয়া হয়। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, যার মধ্যে গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া শেয়ার লেনদেন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০ এর বিধি ৩(১) লঙ্ঘনের জন্য ৮ লাখ টাকা, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্বের জন্য ১ লাখ টাকা এবং পেশাগত অসদাচরণের জন্য আরও ১ লাখ টাকা ধার্য করা হয়।

একই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়েদ আল মামুন হাসানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে অননুমোদিত লেনদেনের জন্য ৩ লাখ টাকা এবং অন্যান্য বিধি লঙ্ঘনের জন্য ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া তৎকালীন ব্যবস্থাপক আহমেদ ইফতেখার শহীদ এবং প্রধান অ্যান্টি-মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ফারজানা ফেরদৌসীকে পৃথকভাবে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া শেয়ার লেনদেন এবং লেনদেন নির্দেশ সংরক্ষণ না করা গুরুতর অপরাধ, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি এবং বাজারে আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি না করা এবং পেশাগত স্বচ্ছতার অভাবকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Share
নিউজটি ৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged