শেয়ারবাজার উন্নয়নে সরকারের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে

সময়: সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১২:০৪:৩২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার নতুন করে সক্রিয় উদ্যোগ নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি। সফরকালে তিনি বাজার উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

গত ২ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল বিএসইসিতে তার প্রথম সফর। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিদর্শন শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের গুরুত্ব ও মনোযোগের প্রতিফলন।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কমিশন কার্যালয়ে পৌঁছালে তানভীর গনিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ অন্যান্য কমিশনাররা। এ সময় তিনি বাজারের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।

প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গঠনমূলক আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, কারসাজি প্রতিরোধ, বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি সরকারের ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে তানভীর গনি একটি আধুনিক ও কার্যকর শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ভবিষ্যতে বাজার কাঠামো উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সরাসরি তদারকি এবং সংস্কার কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে বাজার দ্রুত স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে শেয়ারবাজার সংস্কারের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এতে কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, পৃথক সংস্কার কমিশন গঠন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কারসাজি প্রতিরোধ, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গড়ে তোলা, করপোরেট বন্ড ও সুকুক চালু, প্রবাসীদের বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধি, ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ, শেয়ারবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনিয়োগ শিক্ষা বিস্তারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged