পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে ৮ দফা প্রস্তাব দিল ডিবিএ

সময়: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ৬:৪৮:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান পুঁজিবাজার পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ডিবিএর ৮ দফা প্রস্তাবনা
বৈঠকে ডিবিএর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিকট একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাবনা দাখিল করা হয়। প্রস্তাবনাগুলো ছিল:

১. সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের বাজারভিত্তিক পুনর্গঠন

ডিবিএ মনে করে, করদাতার অর্থ ব্যবহার করে বারবার ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। তাই বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ, একীভূতকরণ ও বেসরকারি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।

২. বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ

ডিবিএর মতে, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে। বন্ড ও ইক্যুইটির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হলে পুঁজিবাজার শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে।

৩. সরকারি সিকিউরিটিজে নন-কম্পিটিটিভ বিডি বৃদ্ধি

ডিবিএ মনে করে, সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ বিনিয়োগকারী, ব্রোকার ও নন-পিডি ব্যাংকের অংশগ্রহণ বাড়ানো হলে বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

৪. আয়কর আইন ও মূলধন সংরক্ষণ নীতির অসামঞ্জস্য দূরীকরণ

ডিবিএর বক্তব্য অনুযায়ী, রিটেইনড আর্নিংস ও স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন শক্তিশালীকরণে বাধা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

৫. বন্ড খেলাপি তথ্য সিআইবিতে অন্তর্ভুক্তি

ডিবিএ মনে করে, বন্ড খেলাপিদের তথ্য সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং খেলাপি সংস্কৃতি হ্রাস পাবে।

৬. শেয়ারবাজারে টি+১ সেটেলমেন্ট চালু

ডিবিএর মতে, শেয়ারবাজারে টি+১ সেটেলমেন্ট চালু হলে লেনদেনের ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ দ্রুত পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে দেশের বাজারের সামঞ্জস্য বৃদ্ধি পাবে।

৭. সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম (BUPI)

ডিবিএ মনে করে, দেশীয় সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু হলে আন্তর্জাতিক গেটওয়ের ওপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে।

৮. ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বৃদ্ধি

ডিবিএর মতে, ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বৃদ্ধি করা হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ও তারল্য বৃদ্ধি পাবে।

গভর্নরের আশ্বাস ও ডিবিএর প্রতিক্রিয়া
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডিবিএর প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন এবং দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম দেশের আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ইতিবাচক নেতৃত্ব এবং গৃহীত সংস্কারমূলক উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, সংস্কার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে ডিবিএর প্রস্তাবনাগুলো সময়োপযোগী। বিশেষ করে টি+১ সেটেলমেন্ট ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের বাজারভিত্তিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

Share
নিউজটি ৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged