সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরতে বাড়ছে সুযোগ

সময়: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১১:৩৯:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত স্কিমের আওতায় থাকা সীমার পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজনেও গ্রাহকদের নিজেদের জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এ জন্য আগামী ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া, খেলাপি ঋণ আদায় এবং ব্যাংকটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, আমানতকারীদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে যাতে টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আদায়ের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে।

এর আগে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফার একটি অংশ কেটে রাখার বা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে মেয়াদি আমানতে আগে থেকে ঘোষিত মুনাফার পুরো অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে আমানতকারীদের জন্য।

 

নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের সঞ্চয়ী হিসাবের স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে গ্রাহক মেয়াদি আমানত ভেঙে ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে আমানতের পুরো মূল অর্থই উত্তোলন করা যাবে।

তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মেয়াদি আমানত ভেঙে অর্থ উত্তোলন করলে ওই অর্থের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, আগাম মেয়াদি আমানত ভাঙলে গ্রাহক শুধু মূল অর্থ ফেরত পাবেন। তবে সংশ্লিষ্ট আমানতের বিপরীতে সরকারকে দিতে হওয়া আবগারি শুল্ক ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করবে।

কোনো গ্রাহক যদি মেয়াদি আমানতের সম্পূর্ণ অর্থ না তুলে তার একটি অংশ উত্তোলন করেন, তাহলে অবশিষ্ট আমানতের ওপর প্রযোজ্য মুনাফা তিনি পুরোপুরি পাবেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে, পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি।

সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে গত বছরের নভেম্বরে কার্যক্রম শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে বিশেষ একটি স্কিম ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই স্কিম অনুযায়ী, সব ধরনের মেয়াদি আমানতের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে থাকা অর্থের ক্ষেত্রে আমানত বিমা ট্রাস্ট তহবিলের আওতায় প্রথম পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরতের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর বেশি অর্থ জমা থাকলে পরবর্তী সময়ে প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়।

এখন নির্ধারিত ওই সীমার বাইরেও বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged