কৃত্রিমভাবে বাজার চাঙা করা টেকসই সমাধান নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান

সময়: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১০:২০:১৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, শুধু আশ্বাস বা কথার মাধ্যমে নয়, বাস্তব কাজের মধ্য দিয়েই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের সূচক কিংবা লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব নয়। একটি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বিএসইসির প্রধান দায়িত্ব।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

মাসুদ খান বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারবান্ধব এবং চলতি বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ব্যক্তিশ্রেণির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের ওপর চূড়ান্ত করের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন বিনিয়োগকারীর প্রকৃত করের স্তর বা কর স্ল্যাব যা-ই হোক না কেন, লভ্যাংশের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কর ১৫ শতাংশ। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন সুবিধা পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনেই দীর্ঘদিনের ‘পেইন পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত ফ্লোর প্রাইস তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি।

ফ্লোর প্রাইসের কারণে মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশের সূচক স্থগিত করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমএসসিআই আগামী নভেম্বর থেকে বাংলাদেশের সূচক আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

বেক্সিমকো ফার্মার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্ট (জিডিআর) নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, কমিশনে যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যেই সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে। এটি সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে অন্য কোনো কোম্পানির জিডিআর তালিকাভুক্তির সুযোগ থাকত না। ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় বাংলাদেশি কোম্পানি বিদেশি বাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।

ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তদারকি ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন মাসুদ খান। তিনি বলেন, শুধু জরিমানা আরোপ করে বড় ধরনের সিসিএ ঘাটতি মোকাবিলা করা কঠিন। এজন্য বিএসইসি ও ডিএসইকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির পাশাপাশি ‘সারপ্রাইজ ইন্সপেকশন’ চালু করতে হবে।

তার মতে, আকস্মিক পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিএসইসি ও ডিএসই উভয়েই মনে করে এটি নিয়মিতভাবে করা প্রয়োজন। পাঁচ বছর পরপর নয়, নিয়মিত এ ধরনের পরিদর্শন হওয়া উচিত।

বিএসইসি ও ডিএসইর সার্ভিল্যান্স বা নজরদারি ব্যবস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রথম ধাপে ডিএসই তাদের সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা আধুনিক করবে। পরবর্তী সময়ে বিএসইসিও এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থায় যাবে।

দেশের বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করতে ডিএসইর সঙ্গে কাজ চলছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, বন্ড লেনদেনের অন্যতম বাধা ছিল ফি। ডিএসইর সঙ্গে আলোচনার পর বন্ড বাজারের ফি কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, ব্র্যাক ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার একটি সামাজিক বন্ড বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসির শর্ত ছিল, বন্ডটি ডিএসইর মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

মাসুদ খান বলেন, প্রতিটি বন্ডই মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করা হবে—এটাই ছিল কমিশনের প্রধান শর্ত। আগামী এক বছরে মেইন বোর্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এতে মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বন্ড কেনার সুযোগ পাবে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, একটি কোম্পানি আইপিওর আবেদন করলে বিভিন্ন পর্যায়ে একই ধরনের প্রশ্ন করা এবং একই ধরনের নথি যাচাইয়ের কারণে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়। এ সমস্যা দূর করতে নতুন আইপিও বিধিতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ ব্যবস্থা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই অডিটের মাধ্যমে কোম্পানির সম্পদ, জমি, যন্ত্রপাতি, পাওনা ও দায়সহ আর্থিক বিবরণীর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। কারণ এসব বিষয়ের সবকিছু সাধারণ বা বিধিবদ্ধ অডিটে ধরা পড়ে না বলে জানান তিনি।

নতুন ব্যবস্থায় আইপিও আবেদন ইস্যুয়ার কোম্পানি সরাসরি ডিএসই বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) জমা দেবে এবং বিএসইসিকে একটি অনুলিপি দেবে। আর্থিক বিবরণী নিয়ে বিএসইসি সরাসরি ইস্যুয়ার কোম্পানিকে প্রশ্ন করবে না। প্রয়োজনীয় প্রশ্ন ডিএসই বা সিএসই করবে।

ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মাসুদ খান। কমিশনের সভায় অনুমোদনের পর বিধিমালাটি জনমত গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ চালু হলে কোনো কোম্পানিকে আর প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার বাজারে ছাড়ার মাধ্যমে কোম্পানিটি দ্রুত তালিকাভুক্ত হতে পারবে। পুরো প্রক্রিয়া দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কয়েকটি ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আইপিও এবং ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সমন্বয়ে হাইব্রিড পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, কোনো কোম্পানি চাইলে তার শেয়ারের একটি নির্দিষ্ট অংশ আইপিওর মাধ্যমে এবং অন্য অংশ সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে ছাড়তে পারবে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনের বোর্ড সিদ্ধান্ত দিতে পারে বলে জানান তিনি।

কিছু কোম্পানি স্বেচ্ছায় পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী না হলেও আইন অনুযায়ী তাদের তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান মাসুদ খান।

সিকিউরিটিজ অ্যাক্টের ২০এ ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনস্বার্থে কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। এ ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ বলতে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, তা নির্ধারণ করে একটি বিধি প্রণয়ন করা হবে।

এই বিধির আওতায় কয়েকটি শ্রেণির কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি ক্লিয়ারিং কোম্পানি (সিসিবিএল) কার্যকর করার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ডিএসইর চেয়ারম্যান তাকে জানিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সিসিবিএলের বোর্ড পুনর্গঠন করা হবে। এরপর নতুন ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা চালুর দিকে এগিয়ে যাবে সিসিবিএল।

সিসিবিএল কার্যকর হলে ব্রোকারদের মার্জিন, সিসিএ ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবে বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানের পুঁজিবাজারে স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা এবং টি+১ নিষ্পত্তি চালুর বিষয়টি তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, পাকিস্তান ২০২৩ সালেই টি+১ ব্যবস্থায় চলে গেছে। বাংলাদেশেও আগামী এক বছরের মধ্যে সিসিবিএল কার্যকর করার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+১ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে ডিএসই, সিএসই, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং বিদেশি কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ টি+১ ব্যবস্থায় যাওয়ার চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মাসুদ খান। ফান্ডটি পর্যালোচনার পর আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া চট্টগ্রামে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। ব্রোকার নিবন্ধন ও পণ্য অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

পুঁজিবাজারের সূচক কিংবা লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো বিএসইসির দায়িত্ব নয় বলে স্পষ্ট করেছেন মাসুদ খান।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বাজারের লেনদেনের পরিমাণ নিশ্চিত করা কিংবা সূচক অবশ্যই বাড়াতে হবে—এগুলো কি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ? তার মতে, বিশ্বজুড়ে সিকিউরিটিজ কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং পুঁজিবাজারকে আরও গভীর ও কার্যকর করা।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সূচক বা লেনদেনকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রমের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। তাই বাজারকে নিজস্ব শক্তিতে চলতে দেওয়া হবে এবং বিএসইসি সেখানে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবে না।

মাসুদ খান বলেন, বাজারে দরপতন হলে সেটি বাজারের শক্তির কারণে হচ্ছে, আবার সূচক বাড়লেও সেটি বাজারের নিজস্ব শক্তির ফল। এটিই শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তার মতে, স্বল্পমেয়াদি কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারকে কৃত্রিমভাবে চাঙা করা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না।

তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ কখনো কার্যকর হয় না; প্রবৃদ্ধি ও বাজারের উন্নয়ন টেকসই হতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে মাসুদ খান বলেন, কমিশন কাজ করছে এবং কথার মাধ্যমে নয়, কাজের মাধ্যমেই তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান।

তিনি আরও বলেন, দুই মাস আগে দেওয়া রোডম্যাপের সঙ্গে বর্তমান কার্যক্রম মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই কমিশনের কাজের মূল্যায়ন করতে পারবেন। আগামী দুই মাসে আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

পুঁজিবাজারে আস্থা পুনর্গঠনে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা কেবল বিএসইসির বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেন না; তারা গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। তাই বাজারের নেতিবাচক খবরের পাশাপাশি ইতিবাচক পরিবর্তন ও অগ্রগতির বিষয়গুলোও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

পুঁজিবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্ষম ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মাসুদ খান। বিশেষ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে আরও শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তার মতে, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল এবং ভবিষ্যতে সিসিবিএলের স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।

এ সময় বড় অর্ডার দেওয়া নিজে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড নয় বলেও স্পষ্ট করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তবে বড় আকারের ক্রয়-বিক্রয়ের ধারাবাহিক সিরিজ ট্রেডিং হলে সেটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাজার যখন দরপতনের মধ্যে থাকে, তখন কেউ বড় অর্ডার দিলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সবশেষে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে মাসুদ খান বলেন, তারা যেন আস্থা রাখেন এবং বিএসইসি যেসব কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সেগুলো নিজেরাই মূল্যায়ন করেন। বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব মূলধন নিজেদেরই সংরক্ষণ করতে হবে এবং সেই মূলধন নিয়ে সিদ্ধান্তও তাদেরকেই নিতে হবে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged