ভালো কোম্পানির সংকট, দুর্বল নজরদারিতে আস্থাহীন পুঁজিবাজার

সময়: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৯:৩০:৪০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  দেশের পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন ও ভালো কোম্পানির সংকটের পাশাপাশি দুর্বল নজরদারি বা সারভিলেন্স ব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, ছোট পর্যায়েই অনিয়ম শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, ভালো কোম্পানি ও নতুন আইপিও বাজারে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি। এসব উদ্যোগ নেওয়া না হলে পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।

বক্তারা বলেন, পুঁজিবাজারকে তার স্বাভাবিক গতিতে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রমও হঠাৎ করে নয়, ধীরে ও স্থিরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত উন্মুক্ত আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও রিচার্ড ডি রোজারিও, ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী এবং আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেসবাহ উদ্দিনসহ অন্যরা।

আলোচনায় ডিবিএর সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক ৬ হাজার পয়েন্ট এখন একটি মনস্তাত্ত্বিক বাধায় পরিণত হয়েছে। সূচক ৬ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছালেই বিভিন্ন দিক থেকে ছোট ছোট ‘ট্রিমার’ ও ‘আর্থকোয়েক’ তৈরি হয়। এর ফলে সূচক ৫ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৮৫০ পয়েন্টের মধ্যে গেলেই বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দেয়।

তিনি বলেন, ৬ হাজার পয়েন্টের এই মনস্তাত্ত্বিক বাধা বাজার কোনোভাবেই অতিক্রম করতে পারছে না। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট ছোট ধাক্কা আসছে, যার প্রভাবেই বাজার দ্রুত নেমে যাচ্ছে।

বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে লালী বলেন, কোনো বিনিয়োগকারী ১ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কিনলে প্রথমে দেখতে হবে এতে সমস্যাটা কোথায়। এমনকি কোনো বিনিয়োগকারী ১০ লাখ টাকার শেয়ার কিনলেও কেন তিনি এত শেয়ার কিনছেন, তা জানতে ব্রোকারেজ হাউজে ফোন করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার মতে, পুঁজিবাজারকে বড় করতে হলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। তবে অবৈধ লেনদেন বা কারসাজিমূলক কর্মকাণ্ড হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

লালী বলেন, সূচক ৬ হাজারে উঠুক কিংবা ১০ হাজারে যাক—অবৈধ বা অনিয়মপূর্ণ কর্মকাণ্ড না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে সমস্যা থাকার কথা নয়।

পুঁজিবাজারের নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আহমেদ রশীদ লালী বলেন, ডিএসইর সারভিলেন্স ব্যবস্থায় কোনো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ তদন্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ব্যাখ্যা নেওয়া যেতে পারে।

তার মতে, সারভিলেন্সে কোনো লেনদেনকে ত্রুটিপূর্ণ বা সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্ট হাউজকে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন চাওয়া উচিত। এভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে দীর্ঘ তদন্ত, অপ্রয়োজনীয় কাদা ছোড়াছুড়ি এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সারভিলেন্স বিভাগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের উদাহরণ দিয়ে লালী বলেন, সেখানে সারভিলেন্স বিভাগে ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন এমন কর্মকর্তার সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একই জায়গায় দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ অনেক সময় থাকে না। ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগও কমে যায়।

পুঁজিবাজারে নতুন ও মানসম্পন্ন কোম্পানি না আসার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। আহমেদ রশীদ লালী প্রশ্ন তোলেন, বাজারে নতুন আইপিও আসছে না কেন? নতুন আইপিও এবং ব্লু-চিপ কোম্পানি বাজারে আনতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেটিও জানতে চান তিনি।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) শেয়ার তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি। ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মালিকানায় থাকা সিডিবিএলের শেয়ার বাজারে নিয়ে আসা গেলে এটি একটি ভালো কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এর পাশাপাশি পিএইচপি গ্রুপের কয়েকটি কোম্পানি এবং স্টার ফার্মার মতো ভালো প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান লালী।

তিনি বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের নিজস্ব বিপণন কার্যক্রম থাকা প্রয়োজন। সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত করতে পারে ডিএসই। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্টক এক্সচেঞ্জ মার্চেন্ট ব্যাংকের ভূমিকা পালন করবে। বরং কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার পর পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে পাঠানো যেতে পারে।

বেক্সিমকো ফার্মার তালিকাভুক্তির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় সংশ্লিষ্ট বিপণন বিভাগ কোম্পানিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে এসেছিল।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পুরোনো লাইব্রেরি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন আহমেদ রশীদ লালী।

তিনি বলেন, একসময় ডিএসইর লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থী, ব্রোকার এবং ডিএসইর কর্মকর্তারা বিভিন্ন তথ্য ও নথি যাচাইয়ের জন্য যেতেন। তার মতে, পুঁজিবাজার বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার জন্য এই লাইব্রেরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সবসময় একটি লাইব্রেরি ছিল। সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে, অথচ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বর্তমানে কোনো লাইব্রেরি নেই।

পুঁজিবাজার নিয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরিতে ডিএসইর লাইব্রেরি পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, বৈশ্বিক তেল সংকটসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে একে অপরকে দোষারোপ না করে সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বর্তমান বিএসইসি কমিশনের প্রশংসা করে ইমন বলেন, চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং চার কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত বর্তমান কমিশন তার দেখা অন্যতম সেরা কমিশন। সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই কমিশন পুঁজিবাজারে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। তবে শুধু কমিশনের একার পক্ষে পুঁজিবাজারকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির সংকটের প্রসঙ্গ টেনে ইমন বলেন, অর্থনীতির রক্ত সঞ্চালনের মতোই তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রভাব পুরো অর্থনীতিতেই পড়ে।

তার মতে, গত ১০ থেকে ১৫ দিনের বাজার পতনের অন্যতম কারণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও তেল সংকট। এর সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিনহাজ মান্নান ইমন।

তিনি বলেন, ২০০ থেকে ৩০০টি আইপিওর মধ্যে প্রায় ১৫০টি এখন ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে চিহ্নিত। এসব কোম্পানির ব্যালান্স শিট ও অভ্যন্তরীণ তথ্য যথাযথ ছিল না এবং আর্থিক প্রতিবেদনে ‘ট্রু অ্যান্ড ফেয়ার ভিউ’ পাওয়া যায়নি।

ডিএসই থেকেই এসব বিষয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান কমিশন সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমন।

তার মতে, পুঁজিবাজারের সামগ্রিক ‘ইকোসিস্টেম’ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমান কমিশন আগের পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার পরিচালিত হতে দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বিএসইসি ও ডিএসইর নেওয়া বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ইমন।

তিনি বলেন, ব্রোকারদের কাছে থাকা বিনিয়োগকারীদের অর্থ হারিয়ে যেতে পারে—এমন ধারণা বা অপবাদ থেকে ব্রোকার কমিউনিটিও মুক্তি পেতে চায়।

আইপিএফ ফান্ডসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, ডিএসইর বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই বড় একটি অংশের অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যানের উদ্দেশে ইমন বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চেয়ারম্যানের বক্তব্য বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে একটি বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইমন বলেন, বিনিয়োগকারীরা একটি নির্ভরতার জায়গা খুঁজছেন এবং আস্থার ভিত্তি তৈরি করতে চাইছেন। সেই আস্থা বিএসইসি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের মাধ্যমেও তৈরি হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের আশার কথা শোনানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডিএসইর পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, পুঁজিবাজারের সারভিলেন্স ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা না গেলে অতীতের সমস্যাগুলো আবারও ফিরে আসতে পারে।

তার মতে, কোনো অনিয়ম ছোট পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ার পর ব্যবস্থা না নিয়ে সেটি বড় হওয়ার অপেক্ষা করলে শেষ পর্যন্ত বাজারকেই বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

তিনি বলেন, কোনো সমস্যা যখন ১ লাখ বা ২ লাখ টাকার পর্যায়ে থাকে, তখনই সারভিলেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে তা শনাক্ত হওয়া উচিত। এমনকি ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছালেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো অনিয়ম ৫০ কোটি বা ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর পর কেন শনাক্ত হবে—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, তিনি উদ্বেগ থেকেই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। সারভিলেন্সের জায়গাগুলো শক্তিশালী করা না হলে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

বিও হিসাবের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরেন রিচার্ড ডি রোজারিও। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও দেশে প্রায় ৩২ লাখ বিও হিসাব ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১৫ লাখে দাঁড়িয়েছে।

তার মতে, গত কয়েক বছরে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আইপিওতে অংশগ্রহণের সুযোগ শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। গৃহকর্মীসহ সাধারণ মানুষও যাতে পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

বড় বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে দূরে সরে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগ করে লোকসানের মুখে পড়লে তাদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা হয়। এ কারণে বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার থেকে সরে গেছে।

বর্তমান পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি ও মানসম্পন্ন শেয়ারের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিচার্ড ডি রোজারিও।

তিনি বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছর আগে বাজারে থাকা অনেক ভালো কোম্পানি এখনো রয়েছে। কিন্তু নতুন করে বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত ভালো কোম্পানি ও স্ক্রিপ্ট তৈরি হয়নি।

তাই পুঁজিবাজার সংস্কারের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ও ধারাবাহিকভাবে এগোনোর পরামর্শ দেন তিনি।

রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, পুঁজিবাজারে স্থিরভাবে এগোতে হবে। রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করে ফেলার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। তার মতে, বাজারের সংস্কার ও পরিবর্তন ‘ধীরে ও স্থিরভাবে’ এগিয়ে নেওয়াই অধিক কার্যকর।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged