টালমাটাল বাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসছে ডিএসই-ডিবিএ

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:২৫:৩৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে টানা দরপতন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট ও অস্বাভাবিক বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ডিএসইর বোর্ডরুমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে চলমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অস্থিরতা মোকাবিলায় ব্রোকারেজ হাউসগুলোর করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

গত রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়ে পুঁজিবাজার। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট বা প্রায় ১.৮৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে—যা গত আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিন ৩৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ৩৪৮টির দর কমেছে, বেড়েছে মাত্র ২০টির।

দরপতনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে লেনদেনও। রোববার ডিএসইতে ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা কম। একই দিনে বাজার মূলধন প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা কমে ৬ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে।

বিশ্লেষকরা মন্দাভাবের পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন—দীর্ঘায়িত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রিতে উৎসাহিত করছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি ডিএসই ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে এবং কিছু হাউসে তদন্ত শুরু করেছে। এতে বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, চিঠি পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছেন, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাণিজ্যিক-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটও বিনিয়োগকারীদের মনোবল দুর্বল করছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও পুনর্গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, যা বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার সামঞ্জস্য না থাকায় এখন সংশোধন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসেও ডিএসইএক্স ২৯৭.৫০ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ কমেছিল এবং দৈনিক গড় লেনদেন ৩০ শতাংশ কমে ৮৭৬ কোটি টাকায় নেমেছিল।

এমন পরিস্থিতিতে ডিএসই-ডিবিএর জরুরি বৈঠক থেকে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক কমানো, অস্বাভাবিক বিক্রির কারণ চিহ্নিত করা এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন এই বৈঠকের দিকে।

 

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged