১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিভ্রান্তিকর, দাবি গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের

সময়: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:১৭:২০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি তাদের বিরুদ্ধে ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় হলেও ওই অর্থ আত্মসাতের কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিপত্রেও এ ধরনের অভিযোগের সমর্থনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোম্পানিটির ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়।

সিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য বলছে, গত ৩০ আগস্ট একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সে ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটির বিষয়ে কোম্পানির বক্তব্য জানতে পরদিন, ৩১ আগস্ট, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সকে চিঠি দেয় ডিএসই। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে স্টক এক্সচেঞ্জটির কাছে চিঠি পাঠায় কোম্পানিটি।

গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জামিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে কোম্পানিটির অতীতের মোট প্রিমিয়াম আয় ও পরিচালন ব্যয়ের বিষয়ে যে পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে, তার কিছু অংশ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর সঙ্গে মিলে যায়। তবে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের অঙ্ককে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ হিসেবে উপস্থাপন করাকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চিঠিতে কোম্পানিটি স্বীকার করেছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কয়েকটি বছরে তাদের পরিচালন ব্যয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বছরগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কোম্পানির বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করেছিল।

গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের জন্য জরিমানা করা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০২১, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রতিটির জন্য জরিমানার পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে জরিমানার মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির দাবি, আরোপিত জরিমানার পুরো অর্থ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আদেশগুলোর অধীনে বর্তমানে কোনো অর্থ বকেয়া নেই।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের পরিচালন ব্যয়ের অর্থ হিসাবের খাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব লেনদেনের পক্ষে ব্যাংক বিবরণী, ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ চাইলে যাচাইয়ের জন্য এসব কাগজপত্র সরবরাহ করতেও তারা প্রস্তুত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় আসা প্রায় ১০৪ কোটি টাকা কোম্পানিটির বর্তমান কোনো প্রদেয় দায় নয়। একইভাবে আইডিআরএও এই পরিমাণ অর্থ কোম্পানির ওপর দায় হিসেবে আরোপ করেনি। এ কারণে নির্ধারিত সীমার বেশি পরিচালন ব্যয়ের জন্য আরোপিত জরিমানাকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

চিঠিতে কোম্পানিটি আরও উল্লেখ করেছে, প্রযোজ্য আইন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শেয়ারহোল্ডারদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged