নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে ছয়টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধনের নীতিগত অনুমোদন এবং লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনস্থ ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারিগুলোর কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে কমিশনের ১০৩৫তম জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেয়ারবাজারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় নতুন ব্রোকার নিবন্ধন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনস্থ সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)-এর সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয়টি স্টক ব্রোকারেজ কোম্পানিকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ দেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা অভিপ্রায়পত্র ইস্যু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধনের জন্য নির্বাচিত ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো—সোহেল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, বি রিচ লিমিটেড, পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ডের বিধান অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে কমিশন।
এ নির্দেশনার আওতায় চারটি প্রতিষ্ঠানের যাচাইকৃত কিন্তু এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া দাবির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান চারটি হলো—বাংকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড।
এসব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের যাচাইকৃত ও অনিষ্পন্ন দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ মোট ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির বিষয়ে পৃথক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এসব প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ, মূল্যায়ন সূচকে অবস্থান এবং আইনগত বিধিবিধান পরিপালনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি ও ঘাটতি সংশোধনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিট সম্পদের পর্যাপ্ততা এবং মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানের ভিত্তিতে চারটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড, এভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
কমিশনের মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট সম্পদ পর্যাপ্ত এবং সংশ্লিষ্ট সূচকে অবস্থান সন্তোষজনক হওয়ায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নিট সম্পদ ও আইনগত বিধিবিধান পরিপালনের ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকায় সাতটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সময় দিয়েছে কমিশন।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড, জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিট সম্পদ ও আইনগত পরিপালন-সংক্রান্ত ঘাটতি দ্রুত সংশোধন করতে হবে।
অন্যদিকে, ফ্যাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ক্ষেত্রে ঘাটতি সংশোধনের জন্য আগেই ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির জন্য পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোমোঃ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনের এসব সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়েছে।


