মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার বিক্রিতে কার নির্দেশ, নথি যাচাই করবে বিএসইসি

সময়: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৬:৩৮:১১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালেক স্পিনিং মিলস পিএলসির পাঁচ বিনিয়োগকারীর হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই এসব শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। তবে শেয়ার বিক্রির নির্দেশনা কোথা থেকে এসেছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য উঠে এসেছে।

বিএসইসির গত ১৮ অক্টোবরের তদন্ত আদেশে বলা হয়েছে, শেয়ার বিক্রির নির্দেশনা পাওয়া নিয়ে মার্চেন্ট ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির প্যানেল ব্রোকার সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেড ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। সিটি ব্রোকারেজের দাবি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল থেকেই শেয়ার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে মার্চেন্ট ব্যাংকটি এমন নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ বিনিয়োগকারীও শেয়ার বিক্রির অনুমতি দেওয়ার কথা নাকচ করেছেন।

ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তদন্ত কমিটি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটালের কাছে সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রির মূল নির্দেশনাসংক্রান্ত নথির সঙ্গে সিটি ব্রোকারেজের জমা দেওয়া নথি তুলনা করে দেখবে। পাশাপাশি নথিতে থাকা স্বাক্ষরগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। নথিগুলো লেনদেনের সময়ই প্রস্তুত করা হয়েছিল, নাকি পরে জালিয়াতি, পরিবর্তন কিংবা পেছনের তারিখ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, তা-ও অনুসন্ধান করবে কমিটি।

শুধু শেয়ার বিক্রির নির্দেশনা যাচাইয়ের মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিক্রি হওয়া শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তর এবং বিক্রির অর্থ কোথায় গেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। শেয়ার বিক্রির নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করার পরও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল কীভাবে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য শেয়ার সরবরাহ করেছিল, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজবে তদন্ত কমিটি।

এ ছাড়া শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের দায়ের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর ওপর কোনো লক-ইন বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিক্রির নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি, প্রতিবেদন দিতে হবে ৬০ কার্যদিবসে

বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে তদন্ত কমিটি।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged