আইপিও সহজীকরণ ও নিয়ন্ত্রক শর্ত শিথিল চায় বিএপিএলসি

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১:৩৬:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে নতুন ও যোগ্য কোম্পানির তালিকাভুক্তির পথ আরও সহজ করতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও-সংক্রান্ত নীতিমালা সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন এবং ক্ষেত্রবিশেষে শিথিলতা আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, ব্যবসাবান্ধব ও পূর্বানুমানযোগ্য নিয়ন্ত্রক পরিবেশ তৈরি করা গেলে একদিকে নতুন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারমুখী করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়তে পারে।

সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকার সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ ভবনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ও কমিশনারদের সঙ্গে বিএপিএলসির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব ও বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৈঠকের বিষয়টি জানিয়েছে বিএসইসি।

আইপিও প্রক্রিয়া আরও সহজ করার প্রস্তাব

বৈঠকে বিএপিএলসির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের শেয়ারবাজারে নতুন ও যোগ্য কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান আইপিও নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

বিএপিএলসির মতে, যোগ্য কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করা গেলে বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি শেয়ারবাজারের পরিধি বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং বাজারে নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিধিবিধানেও পরিবর্তনের দাবি

শুধু নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি নয়, ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক শর্ত নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বিএপিএলসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন কিছু বিধিবিধান রয়েছে, যেগুলো বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব বিধিবিধান প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা পরিবর্তন করা দরকার।

এ ছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে কিছু নিয়ন্ত্রক শর্ত শিথিল করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের যুক্তি, এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে।

স্বচ্ছ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব

বৈঠকে শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক বিষয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

বিএপিএলসির মতে, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও সহায়ক নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিবেশ শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে।

সংগঠনটির দৃষ্টিতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের গতি আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠকে বিএপিএলসি ও বিএসইসির যারা ছিলেন

বিএপিএলসির সভাপতি রিয়াদ মাহমুদের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য রওকাদার কাদের, হুমায়ুন রশিদ, সৈয়দ ফারজানাহ চৌধুরী, শরীফ শাহ জামাল রাজ, জেয়াদ রহমান, মো. ইমাম শাহীন, হাসান তারেক, মেজর জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম (আখতার), মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. আবদুল্লাহ আল এমরান। সভায় বিএপিএলসির মহাসচিব মো. আমজাদ হোসাইনও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বিএসইসির পক্ষে চেয়ারম্যান মাসুদ খান ছাড়াও কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, মো. নাফিজ আল তারিক ও মো. হোসাইন সাদাত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged