কৃত্রিম লেনদেন ও নিষিদ্ধ সময়ে শেয়ার কেনাবেচা, বিএসইসির কঠোর ব্যবস্থা

সময়: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১:২৯:২২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন শেয়ার ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন এবং রহিমা ফুডের ভ্যাট ইন-চার্জ মো. সোলয়মান।

বুধবার বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পৃথক দুটি এনফোর্সমেন্ট আদেশের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ বিএসইসির অনুকূলে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। তদন্তে ২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিক কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৪১ টাকা ২০ পয়সায় উন্নীত হয়। অর্থাৎ, আলোচিত সময়ে শেয়ারটির দাম প্রায় ১০৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নিজের একাধিক সুবিধাভোগী মালিকানা বা বিও হিসাব ব্যবহার করে কৃত্রিম লেনদেন তৈরির অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও শেলটেক ব্রোকারেজে থাকা নিজের দুটি বিও হিসাবের মধ্যে রহিমা ফুডের শেয়ার কেনাবেচা করেন।

তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই একটি হিসাব থেকে অন্য হিসাবে প্রতিটি ১৩৪ টাকা দরে ২ হাজার ৮৬টি শেয়ার লেনদেন করেন দেলোয়ার হোসেন। এতে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তিত না হলেও বাজারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি এবং শেয়ারদর বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিএসইসি এ ধরনের লেনদেনকে ‘ওয়াশ ট্রেড’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দেলোয়ার হোসেন ঘটনাটিকে প্রযুক্তিগত ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও কমিশন তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করেনি। বিএসইসির মতে, এ ধরনের কার্যক্রম সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর বিধান লঙ্ঘন করে।

 

অন্যদিকে, রহিমা ফুডের ভ্যাট ইন-চার্জ মো. সোলয়মানকে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সময়ে কেনাবেচায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। তদন্তে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে বিএসইসির ‘সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা, ২০২২’ লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের আগপর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সোলয়মান ও তাঁর স্ত্রী ওই সময়ে রহিমা ফুডের ১২ হাজার ৪০৯টি শেয়ার কেনেন এবং ১০ হাজার ২৫৪টি শেয়ার বিক্রি করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে তাঁরা ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মুনাফা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুনানিতে সোলয়মান সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান সম্পর্কে অবগত না থাকার কথা জানিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তবে বিএসইসি তাঁর এ যুক্তি গ্রহণ করেনি।

কমিশন জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অনিয়ম ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share
নিউজটি ১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged