নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের উন্নয়নে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পর আজ (০৩ নভেম্বর) পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজার বিনিয়োগের জন্য চালু থাকা বিশেষ তহবিল সুবিধার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পূর্বে নির্ধারিত ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এই সুযোগ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দরপতন অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মূলধনসংকট, বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় দেশের শেয়ারবাজার ভুগছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রম সচল রাখতে এবং বাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেছিলেন বাজারসংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীরা। তবে পরদিনই এমন পতনে বাজারের প্রতি আস্থাসংকট আরও বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, করোনা মহামারি চলাকালীন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেয়ারবাজারে তীব্র তারল্যসংকট মোকাবিলা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এই বিশেষ তহবিল গঠন নীতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়ন কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। বড় সুবিধা হলো—এই তহবিলের আওতায় করা বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর প্রচলিত শেয়ারবাজার এক্সপোজার লিমিট বা ধরাবাঁধা বিনিয়োগ সীমার বাইরে থাকে।
তবে শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি তহবিলের আকার বৃদ্ধিরও দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) প্রতি ব্যাংকের জন্য এই সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা এবং মেয়াদ আগামী ২০৩১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব জানিয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার উত্থান ছাড়া এই মুহূর্তে পতনের কথা চিন্তাই করা যায় না। তাও আবার বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়। বর্তমান ডিভিডেন্ড মৌসুমের মধ্যে এত বড় একটি সিদ্ধান্তেও যখন বাজারে দরপতনের মাত্রা বেড়েছে, এটি বাজার নিয়ন্ত্রণে বর্তমান কমিশনের ব্যর্থতারই প্রমাণ। বর্তমান কমিশন কেন পতন ঠেকানোর কথা বলছে বা পতন ঠেকাতে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের প্রধানমন্ত্রী যেখানে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থতার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রী পরিবর্তন করেছেন, তাহলে সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কমিশন পরিবর্তন করে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হোক। কমিশনে বিনিয়োগকারী সংগঠনের যোগ্য নেতৃত্বকেও পরামর্শক হিসেবে রাখা হোক।
এদিকে, আজ (০৩ নভেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমলেও টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে। এছাড়া লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৯.২৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৮৪.৩১ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৭.৫১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০.২৯ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ২০.২৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ২১.৮৫ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৮টির দর বেড়েছে, ২৬৭টির দর কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৫টির, কমেছে ১১২টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৮৪টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৪.৯৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২১৪.৭০ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ১০৪.৬০ পয়েন্ট কমেছিল।


