ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থতা ও প্রতিবেদনে গাফিলতি, তিন কোম্পানির শীর্ষ ব্যক্তিরা দণ্ডিত

সময়: বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬ ৬:৪২:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে ক্যাশ ডিভিডেন্ড পরিশোধে ব্যর্থতা, আর্থিক প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসির চেয়ারম্যানসহ আটজনকে মোট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গত ১৯ মে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০১৪তম কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কমিশনের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আফতাব অটোমোবাইলস: ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের পুরো টাকা বিনিয়োগকারীদের দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মোট ৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৬৪ টাকার মধ্যে ৬ কোটি ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৮১৪ টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট ১ কোটি ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৯ টাকা বাকি রাখে তারা।

কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে বকেয়া ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করতে হবে। সময়মতো পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড কার্যকর হবে এবং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরের সাত দিনের মধ্যে তা আদায় করা হবে।

জরিমানার পরিমাণ হলো: চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামকে ৩০ লাখ টাকা করে, পরিচালক খালেদা ইসলাম, সাজেদুল ইসলাম ও ফারহানা ইসলামকে ২০ লাখ টাকা করে, তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে (সিএফও) ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সেক্রেটারিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, এসব জরিমানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হবে। নির্ধারিত সময়ে জরিমানা পরিশোধ না করলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে। এ জরিমানা অবণ্টিত ডিভিডেন্ড পরিশোধের দায় থেকে কোম্পানিকে অব্যাহতি দেবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

জেনেক্স ইনফোসিস: ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৩ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের দিতে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। যা সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি-বিধান লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়েছে।

কোম্পানির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থায় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম, অ্যাক্টিং ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহজালাল উদ্দিন, পরিচালক চৌধুরী ফজলে ইমাম, প্রিন্স মজুমদার, ওরাকল সার্ভিসেস পিএলসি ও নিলুফার ইমামকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া তৎকালীন সিএফও ও কোম্পানি সেক্রেটারিকেও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আটজনের বিরুদ্ধে মোট জরিমানা ৮ লাখ টাকা।

খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ: ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এনামুল কবির খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান, পরিচালক মো. রুহুল কবির খান, হযরত আলী ও জারিন কবির খানকে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আজিজুল জব্বারকে ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সচিব তাপস কুমার সরকারকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট জরিমানা ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

বিএসইসি জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশন ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

 

Share
নিউজটি ০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged