পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণে নেতৃত্ব দেবেন আবেদুর রহমান সিকদার

সময়: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬ ৬:৫৪:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন আবেদুর রহমান সিকদার।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকটির সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে যোগদান করেছেন। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবেদুর রহমান সিকদারকে এই পদে নিয়োগের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান করে। তার আগে ২৩ জুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাঁর নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করে।

প্রায় দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণ সময়ের এমডি না থাকায় ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। নতুন এমডি যোগদানের ফলে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সম্পদ, দায়, কর্মী ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো একীভূতকরণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এমডির প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে—পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

উল্লেখ্য, আর্থিক সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫’-এর আওতায় এনে সরকার ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে। ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটিতে সরকারের অংশীদারি রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হয়েছে।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর ব্যাংকটিকে পরিচালনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর আওতায় এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আবেদুর রহমান সিকদারের নেতৃত্বে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজ আরও বেগবান হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।

 

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged