নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০২০তম কমিশন সভায় অনুমোদিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর সংশোধনী খসড়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসির মুখপাত্রের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিশনের ১০২০তম সভায় মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর সংশোধন প্রস্তাবের (খসড়া) অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও, সংশোধিত খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশের আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই বিষয়ে অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতাবিবর্জিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অযাচিত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশোধনের প্রধান উদ্দেশ্য
বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন স্পষ্ট করেছে, মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫ সংশোধনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বর্তমান বিধিমালা বাস্তবায়নের সময় যে বাস্তব ও ব্যবহারিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো দূর করা। পাশাপাশি বিধিমালাকে আরও সহজ, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করে বাজারসংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের জন্য এর প্রয়োগ আরও সুবিধাজনক করে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
এতে আরও বলা হয়েছে, সংশোধনী প্রস্তাব তৈরির সময় মার্জিন সুবিধা গ্রহণকারী বিনিয়োগকারী, স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য একটি কার্যকর, বাস্তবমুখী এবং বিনিয়োগকারী-সহায়ক মার্জিন ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা।
বিএসইসি আরও জানিয়েছে, সংশোধিত খসড়া বিধিমালাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন সভায় অনুমোদিত খসড়াটি খুব শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর অংশীজন ও সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে।
জনমত যাচাইয়ের আগেই সংশোধিত বিধিমালাকে ঘিরে অনুমাননির্ভর বা আংশিক তথ্য প্রকাশ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিশন। বিএসইসির মতে, প্রকৃত খসড়া প্রকাশের পর বিধিমালার উদ্দেশ্য, পরিধি এবং সংশোধনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবার সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সবসময় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে। মার্জিন বিধিমালার এই সংশোধনী উদ্যোগও সেই নীতিরই ধারাবাহিক অংশ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসইসির এই ব্যাখ্যা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়ক হবে। সংশোধনী খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার আগে অংশীজনের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ স্বচ্ছতার জন্য ইতিবাচক। সংশোধনী কীভাবে মার্জিন ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে, তা জানতে এখন সবাই খসড়া প্রকাশের অপেক্ষায়।


