bangladesh bank

পাঁচ এনবিএফআই অবসায়নের সিদ্ধান্ত, উচ্চ খেলাপিতে কঠোর বাংলাদেশ ব্যাংক

সময়: বুধবার, মে ১৩, ২০২৬ ৪:২১:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও সক্ষম হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। পাশাপাশি আরও দুইজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।

তিনি আরও জানান, অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ অর্থ আগামী বাজেটে বরাদ্দের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতেই অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

ব্যাংক রেজুলেশন আইনে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ, পুনর্গঠন বা বন্ধের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাও নির্ধারিত রয়েছে।

এর আগে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে বন্ধ করা হবে না—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে সন্তোষজনক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা না পাওয়ায় একাধিক ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা কমিয়ে অবসায়নের সিদ্ধান্তে আনা হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এমডি পিকে হালদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক অনিয়মে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged