প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে পুঁজিবাজার উন্নয়নে আশাবাদী ক্যাপমিনাফ

সময়: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬ ৬:০৪:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন (ক্যাপমিনাফ)। বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ মতামত ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপমিনাফ জানায়, দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোর বাজেটেও পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন নীতির বিষয়ে তারা মতামত জানিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটেও তারা তাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে।

সংগঠনটির মতে, পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ এবং অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও মতামত বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার যে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা সন্তোষজনক বলে মনে করে ক্যাপমিনাফ।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতোমধ্যে টি+২ সেটেলমেন্ট পদ্ধতি থেকে ধাপে ধাপে টি+১ এবং পরবর্তীতে বর্তমান সময়ের জন্য টি+০ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আইপিও অনুমোদন এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে মুনাফার অন্তত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণে উৎসাহিত করতে নতুন করনীতি প্রবর্তনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লেনদেন নিষ্পত্তি আরও দ্রুত, নিরাপদ ও দক্ষ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের বাজার অবকাঠামো গড়ে উঠবে বলে তাদের বিশ্বাস।

ক্যাপমিনাফের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, সীমিত বিনিয়োগ পণ্য এবং ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের কারণে দেশের পুঁজিবাজার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। একইসঙ্গে নতুন উদ্যোক্তারা মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত হবে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এতে বাজারে নতুন করে আস্থা তৈরি হচ্ছে। তাদের ধারণা, বাজেট পাস হওয়ার পর দৈনিক লেনদেন ৫ হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করতে পারে এবং এর ফলে প্রায় ৫ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

ক্যাপমিনাফ মনে করে, সরকারের ধারাবাহিক সংস্কার কর্মসূচি, নীতিগত সহায়তা এবং পুঁজিবাজারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে।

সংগঠনটি আরও প্রস্তাব করেছে, যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি টানা তিন বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যাদের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেসব কোম্পানিকে শাস্তিমূলকভাবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে না পাঠিয়ে বিএসইসির মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ করা হোক। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিনিয়োগকারী সুরক্ষার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর সুশাসন ও পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

ক্যাপমিনাফের নেতারা বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন নিয়ে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অর্থমন্ত্রী সংসদে এবং বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে সময়োপযোগী বক্তব্য দিয়েছেন। এ জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে ক্যাপমিনাফ সরকারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে আস্থাভিত্তিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, শক্তিশালী, স্থায়ীভাবে স্থিতিশীল এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজারে পরিণত করার আহ্বান জানায়।

বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ক্যাপমিনাফের সভাপতি মো. রুহুল আমিন আকন্দ, মো. আছাহাব মিয়া, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. জাকির হোসেন চৌধুরী, মো. জাহিদুল ইসলাম লিটু, মো. মহিনউদ্দিন মিন্টু, মো. রেজাউল করিম, সালেহা খাতুন, মইনুল হোসেন, এনামুল হক, সিদ্দিকর রহমান এবং আক্তারুজ্জামানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged