নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব সূচকই নিম্নমুখী হয়েছে। পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে—এই ধারণা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। নতুন কমিশন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে আশা ছিল, তা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই এখন মনে করছেন, নতুন কমিশন বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুদিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল; কিন্তু হঠাৎ করেই সেই ইতিবাচক ধারা ভেঙে গেছে। এই অবস্থা পরিবর্তনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো উদ্যোগ নেই, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। যদি এমন চলতে থাকে, তবে আবারও আস্থাসঙ্কট দেখা দিতে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জোরালো মনিটরিং ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা যদি তা না পারে, তাহলে দায়িত্ব থেকে সরে আসা উচিত।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৫.৭০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮১৪.২৬ পয়েন্টে নেমেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১৩.৬১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৭.৭৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮.৫৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭৫.৬৬ পয়েন্টে রয়েছে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টির দর বেড়েছে, ৩১৮টির দর কমেছে এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। আজ ডিএসইতে প্রায় ৯৯৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে প্রায় ১৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এ পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০টির দর বেড়েছে, ১৬৭টির দর কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই আজ ১১১.২২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৬২৪.১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন ৬৮.১২ পয়েন্ট কমেছিল।


