নজরুল ইসলাম ও স্ত্রীর ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের আদেশ

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৮:৫৩:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ৫৭ কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ এবং কোম্পানির নামে অতিরিক্ত মূল্যে জমি কেনাসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলাম জড়িত। অনুসন্ধান চলাকালে এসব সম্পদ হস্তান্তর কিংবা পাচার হওয়ার আশঙ্কা করে দুদক। এ কারণে সম্পদগুলো ক্রোকের আবেদন করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি, প্লট ও বাড়ি রয়েছে।

আদালতের আদেশে এসব সম্পদ যাতে হস্তান্তর বা বিনিময় করা না হয়, সে জন্য ঢাকার জেলা রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নথিতে নজরুল ইসলামের নামে উত্তরা, ভালুকা, কুয়াকাটা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, গুলশান, রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে থাকা ২০টি দলিলের সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সম্পত্তির সরকারি বা দলিলমূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এর মধ্যে গুলশানে ৮ কাঠা জমি ও বাড়ির দলিলমূল্য ১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ৬ দশমিক ১৮ একর জমির দলিলমূল্য ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরায় ২১ দশমিক ২১ কাঠা জমির তথ্যও রয়েছে।

অন্যদিকে তাসলিমা ইসলামের নামে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে থাকা ২২টি দলিলের সম্পদের তথ্য আদালতের নথিতে রয়েছে। এসব সম্পত্তির দলিলমূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। সম্পত্তিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ফ্ল্যাট, জমি, আবাসিক প্লট ও ভবন রয়েছে।

নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে থাকা সম্পদের সরকারি বা দলিলমূল্য সব মিলিয়ে ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। তবে দুদকের নথি অনুযায়ী, এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য এর চেয়ে আরও বেশি হতে পারে।

দুদক জানিয়েছে, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই দায়ের করা একটি মামলাসহ বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর একটি মামলায় নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় তিনি বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে দুদক।

এদিকে নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে দুদক। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কথিত সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

তবে আদালতে এসব অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

Share
নিউজটি ১০২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged