নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৫ এপ্রিল ২০২৬: শেয়ারবাজারে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘আইপিও তহবিলের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ বা বিনিয়োগ’ শীর্ষক এক সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বাজারের গতিশীলতা ফেরাতে অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও বাজারের প্রাণচাঞ্চল্য
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, শেয়ারবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে এবং নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করতে কমিশন নিরলস কাজ করছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই কমিশনের প্রধান ম্যান্ডেট। তিনি বাজারে প্রাণবন্ত ও গতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আইপিও অর্থে ঋণ পরিশোধ : উদ্যোক্তাদের দাবি
সভায় ব্যবসায়ী নেতা ও বাজার বিশেষজ্ঞরা আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কোম্পানির ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বর্তমান কঠোর নিয়ম কিছুটা শিথিল করার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে, যেসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে কিন্তু বর্তমানে নিয়মিত আছে, সেগুলোকেও আইপিওর অর্থ দিয়ে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বৈশ্বিক মানদণ্ড বিবেচনা করে এই নমনীয়তা দেখানো হলে বড় কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে আগ্রহী হবে বলে তারা মনে করেন।
শীর্ষ ব্যবসায়ীদের পর্যবেক্ষণ
অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে আইপিওর অর্থে ঋণ পরিশোধে আমাদের মতো এত কড়াকড়ি নেই। অন্যদিকে, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, শুধু বড় গ্রুপের নাম দেখে নয়, বরং প্রকল্পের লাভজনকতা বিচার করে ঋণ পরিশোধের অনুমতি দেওয়া উচিত। সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিনের মতে, উৎপাদনশীল খাতের ঋণ পরিশোধ করে মূলধন পুনর্গঠনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ওপর জোর
এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, বর্তমানে স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই সংস্কৃতি বদলাতে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে নীতিমালার সামঞ্জস্য আনা জরুরি। বিএবি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকারও শক্তিশালী পুঁজিবাজারকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, সভায় অংশীজনদের দেওয়া সব প্রস্তাবনা কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করবে। পুঁজিবাজারের সুশাসন নিশ্চিত করে কীভাবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা যায়, সেটাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য।


