ভুয়া পোর্টফোলিও ও শেয়ার বিক্রির ফাঁদে নিঃস্ব ৭ হাজার বিনিয়োগকারী

সময়: বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১১:৫৪:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় আর্থিক জালিয়াতি হিসেবে পরিচিত ‘মশিউর সিকিউরিটিজ’ কেলেঙ্কারিতে এক বছর পার হলেও এখনো কোনো ভুক্তভোগী তাদের হারানো অর্থ বা শেয়ার ফেরত পাননি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭ হাজার গ্রাহকের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও অর্থ উদ্ধারে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার কৌশল

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা চালায়। ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারে কারসাজি করে গ্রাহকদের নিয়মিত ভুয়া পোর্টফোলিও বিবরণী পাঠানো হতো। এতে গ্রাহকেরা মনে করতেন তাদের শেয়ার হিসাবেই রয়েছে, অথচ বাস্তবে সেগুলো আগেই বিক্রি করে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হতো।

এছাড়া সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর সতর্কতামূলক বার্তা যাতে গ্রাহকদের কাছে না পৌঁছায়, সেজন্য অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করেও প্রতারণা চালানো হয়।

১৬১ কোটি টাকার আত্মসাৎ উন্মোচন

২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রাথমিক পরিদর্শনে অনিয়ম ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বিএসইসি, ডিএসই ও সিডিবিএল-এর যৌথ তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

◉ সিসিএ (কাস্টমার কনসোলিডেটেড অ্যাকাউন্ট) থেকে প্রায় ৬৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
◉ গ্রাহকদের অজান্তে শেয়ার বিক্রি করে আরও প্রায় ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে মোট আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬১ কোটি টাকার বেশি।

নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা

ক্ষতিগ্রস্তদের বড় একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী। তাদের অনেকেই অবসরের নিরাপত্তার কথা ভেবে ভালো কোম্পানির শেয়ারে সঞ্চয় করেছিলেন। তবে পরে দেখা যায়, তাদের হিসাবের সব শেয়ার আগেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও দুদকের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময়েও অর্থ উদ্ধার না হওয়া এবং বিচারিক অগ্রগতির অভাব শেয়ারবাজারে আস্থার সংকটকে আরও গভীর করছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর আইন প্রয়োগ না হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged