নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বর্তমান অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে শেয়ারবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে ১৮ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে ‘পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আবেদনে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নীতি, সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনের শুরুতে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজার ধীরে ধীরে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন’ একটি সরকারি নিবন্ধিত সংগঠন, যা দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির দাবি, দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটি অর্থনীতির আয়নাস্বরূপ। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করলে এ বাজার থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন সম্ভব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, দেশে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩৫ লাখ বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষিত বেকার যুবক ও গৃহিণীরাও এ বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেয়ারবাজার থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় করছে। পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তারা প্রি-আইপিও, আইপিও ও রাইট ইস্যুর মাধ্যমে তুলনামূলক কম ব্যয়ে মূলধন সংগ্রহ করে শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে, শেয়ারবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিএসইসির সঙ্গে জরুরি সমন্বয় সভা করা প্রয়োজন। অন্যথায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যার দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর বর্তাবে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই শেয়ারবাজারের প্রাণ ও মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বারবার বিনিয়োগ করেও এক অদৃশ্য শক্তির কাছে পরাজিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় বাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বিএসইসি চেয়ারম্যানের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংগঠনটির ১৮টি প্রস্তাবনিম্নরূপ:
০১. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (BSEC) কর্মকর্তাদের, DSE, CSE, ICB, CDBL, CCBL ও CMSF কে দ্রুত নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসরদের পদচ্যুত করে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুপ্রাণিত যোগ্য ব্যক্তিদের দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে। তবেই আমাদের বহুল কাঙ্খিত গণতান্ত্রিক সরকার ও জনগণ আশানুরূপ ফলাফল লাভ করবে।
০২. পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্থায়ী আস্থা অর্জন এবং বাজারের তারল্য সঙ্কট দ্রুত নিরসনকল্পে কমপক্ষে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক্ বরাদ্দ বা Market stabilization fund এর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
০৩. আমরা জানি, বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। তাই পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতায় ও উন্নয়নে বিএসইসিকে মার্জিন ঋণ বিধিমালা খসড়া নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করা এবং স্বচ্ছ্ব প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত করতে হবে। এজন্য বাজারের সংশ্লিষ্ট পক্ষের বা অংশীজনদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি গ্রহণ করে বিধিমালাকে আরো সহজীকরণ, বাস্তবসম্মত, ব্যবসাবান্ধব ও কার্যকর করে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রসঙ্গত: বাজারের সকল খাতে ইউনিফর্ম হিসেবে পিই ৫০ পয়েন্ট নির্ধারণ করা শ্রেয়।
০৪. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কোয়ার্টারলী (প্রান্তিক) আর্থিক প্রতিবেদন (EPS, PE, NAV, NOCFPS) অত্যন্ত স্বচ্ছ্ব ও ম্যানিপুলেশনবিহীন ভাবে প্রণয়ন করার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং Standard cash dividend প্রদানে উৎসাহী করতে হবে। এ বিষয়ে BFRC কে অধিকতর স্বচ্ছ্ব ও শক্তিশালী করতে ঢেলে সাজাতে হবেই। এছাড়া, বাৎসরিক চার প্রান্তিকের মধ্যে দ্বিতীয় ও শেষ প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন নিরিক্ষীত হতে হবে এবং নিরিক্ষীত প্রতিবেদনে ম্যানিপুলেশনের আশ্রয় নিলে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
০৫. পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্থায়ী আস্থা ফেরাতে তাৎক্ষনিক বা স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাংকগুলোর সূদের হার ১০% এর নিচে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, আমরা জানি শেয়ারের মূল্য সূদের হারের সাথে বিপরীতভাবে সম্পর্কযুক্ত।
০৬. ICB একটি বিশেষায়িত সরকারী মর্যাদাসম্পন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে সংস্কার ও পূনর্গঠন অতীব জরুরী। আইসিবিতে প্রায় ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। অত্র প্রতিষ্ঠানে বেশিরভাগই ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসরদের ঘাঁটি। তাই প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে জাতীয়তাবাদী আদর্শের যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছুতে পারবো -ইনশাআল্লাহ। যেমন- আইসিবির পোর্টফোলিও প্রায় ১৪ হাজার কোটি থেকে ৮ হাজার কোটিতে নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, আইসিবির বিনিয়োগকারীরাও তাদের বিভিন্ন ন্যায্য অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
০৭. বিনিয়োগকারীরা যেন পূনরায় আত্মহত্যা না করেন এবং বারংবার লোকসানে উপনীত না হন- সেজন্য বিনিয়োগকারীদেরকে কোয়ার্টারলী (প্রতি প্রান্তিকে) প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও Education এর মাধ্যমে Awareness বাড়াতে হবে।
০৮. জবাবদিহিতার জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর AGM ভার্চ্যুয়ালী না করে Physicall (স্বশরীরে) হতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্বাবধানে ঢাকাস্থ প্রতিদিন সকাল-বিকাল দুইটি করে AGM এর আয়োজন করতে হবে। কারণ, অএগ হলো শেয়ারহোল্ডার এবং কোম্পানির মধ্যকার উন্নয়নের সেতুবন্ধন ও মহামিলন।
০৯. Capital Market Stabilization Fund (CMSF) কে যুগোপযোগী হিসেবে গঠন করে পুঁজিবাজার উন্নয়নে দ্রুত পরিচালিত করতে হবে এবং BICM (Bangladesh Institute of Capital Market) কেও শেয়ার মার্কেটের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন Relevant যোগ্য ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত করতে হবে। এছাড়া, CMSF কে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এতে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ক্রান্তিকাল থেকে উত্তোরণে সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করবে।
১০. পুঁজিবাজারে দ্রুত তারল্য সঙ্কট কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে দেশীয় বড় বিনিয়োগকারী, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য তাদেরকে কর সহজীকরণ প্রক্রিয়াসহ বিশেষ সুবিধা প্রদানের (Incentive) পদক্ষেপ নিতে হবে।
১১. সরকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সক্রিয় করার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা বাস্তবায়নে তাৎক্ষনিক বা স্বল্পমেয়াদী হিসেবে বিশেষ নমনীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ- সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, বিডিবিএল ব্যাংক ও সাধারণ বীমা ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ব্যাংকিং উইং এর মাধ্যমে ন্যূনতম এক হাজার (১০০০) কোটি টাকা বর্তমান বাজারে বিনিয়োগে বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে।
১২. পুঁজিবাজারের Listed Compan গুলোর ক্যাটাগরি পরিবর্তনে- সম্পূর্ণ দায় ইস্যূ ম্যানেজার, অডিটর এবং কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের আইনের আওতায় আনা অতীব জরুরী। কেননা, কোম্পানির শেয়ার ‘Z‘ ক্যাটাগরিতে পাঠানো ও শেয়ার দর নিম্নমুখী হওয়ায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই এর দায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কোনভাবেই নিতে পারেন না। এছাড়া, নো- ডিভিডেন্ড দেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে- যেগুলো পর পর তিন (০৩) বছর ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হয়েছে ও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে সেগুলোকে ‘Z‘ ক্যাটাগরিতে শাস্তিমূলকভাবে না পাঠিয়ে বিএসইসি কর্তৃক প্রশাসক বসানো হোক। এতে বিনিয়োগকারী ও কোম্পানি উভয়েরই উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
১৩. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে ভাল ও মৌলভিত্তি সম্পন্ন (Fundamental) কোম্পানি বাজারে আনতে হবে। কোনভাবেই দুর্বল ও ঋণগ্রস্ত কোম্পানি তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়া যাবেনা। এক্ষেত্রে সরকারী খাতের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিসমূহের শেয়ার দ্রুত পুঁজিবাজারে অফলোড করা যেতে পারে এবং আইপিও এনআরবি কোটার সংস্কার ও দ্রুত তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া, বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে বাই-ব্যাক আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
১৪. পুঁজিবাজারে দ্রুত তারল্য প্রবাহের লক্ষ্যে BSEC এর ২ C.C ধারা অনুযায়ী কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের এককভাবে ২% এবং সম্মিলিতভাবে ৩০% শেয়ার ধারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৫. পুঁজিবাজারে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মার্জিন ঋণধারী (নিগেটিভ) অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বিশ্বাস পূণ:স্থাপনের লক্ষ্যে নিগেটিভ ঋণ হিসাবসমূহকে দ্রুত সচল করার নিমিত্তে ১০০% সুদ নি:শর্তভাবে মওকুফসহ বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং ফোর্স সেল দ্রুত বন্ধ করতে হবে। এছাড়া, কোনো বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি যদি মার্জিন ঋণের ৫০% এর নিচে নেমে যায়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান- সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর সাথে সন্তোষজনক লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
১৬. বর্তমানে বাজারের Delisting প্রক্রিয়া থেকে আপতত: দূরে থাকতে হবে। যেমন- ৫টি ব্যাংক একীভূত করণ, ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৩২টি ক্লোজ এন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইত্যাদি। এতে কোম্পানি লাভবান হলেও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাজেই, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যথোপযুক্ত ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে।
১৭. পুঁজিবাজারে লেনদেনের কমিশন যেমন- লাগা চার্জ, হাওলা চার্জ, কমিশন, ইনকাম ট্যাক্স এগুলোর রেট কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এতে নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আকৃষ্ট হবেন এবং পুঁজিবাজার নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে এবং গুজবকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৮. পুঁজিবাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুঁজিবাজার উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারীর সভাপতিত্বে, অর্থমন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, সিসিবিএল, সিএমএসএফ, বিনিয়োগকারীদের সরকারী নিবন্ধিত সংগঠনের প্রতিনিধি, আইসিবি, বিএপিএলসি, বিএমবিএ, ডিবিএ, এবিবি ও বিএবি এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাসিক শেয়ার মার্কেট পর্যালোচনামুলক বিশেষ সমন্বয় মিটিং করতে হবে। তবেই পুঁজিবাজার তার উন্নয়নের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারবে- ইনশাআল্লাহ।
আবেদনের শেষাংশে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীলতা, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরে এলেও পুঁজিবাজার এখনও ব্যতিক্রম হিসেবে রয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা একাধিকবার শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন, যা সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিশেষে, বিএসইসি চেয়ারম্যানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির উন্নয়নে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সংগঠনটি তাদের ১৮ দফা প্রস্তাবনা সুবিবেচনার মাধ্যমে বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।
এসএ খান/


