নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা চার দিনের পতনের পর গতকাল শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান ঘটেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজও বাজার লেনদেন শেষ হয়েছে উত্থানের মধ্য দিয়ে। তবে গতকালের তুলনায় আজ সূচক উত্থানের মাত্রা কিছুটা বেশি ছিল। গতকাল টাকার অংকে লেনদেন কমলেও আজ তা বেড়েছে। শুধু টানা দুইদিনের উত্থানে বাজারকে স্থিতিশীল বা স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। এই উত্থান কতদিন স্থায়ী হয়, তা জানতে বাজারের পরিস্থিতি আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব পুনরায় চালুর অনুমোদনের খবরে গতকাল দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি ছিল। তবে কেবল এই একটি বিষয়ের উপর ভর করে বাজারে উত্থান হয়েছে বলে মনে করেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, কোনো একটি বিষয়ের উপর ভর করে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হয় না বা সূচকের উত্থান ঘটে না। যেখানে শেয়ারবাজারের একাধিক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রভাব বাজারে দেখা যায়নি, সেখানে মাত্র একটি সিদ্ধান্তেই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে কীভাবে? তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাজার উন্নয়নে অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ ও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান কমিশন। কিন্তু বাজারে পতন ঠেকানোর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাজারকে ভালো করতে হলে আগে কারসাজিমুক্ত করে পতন ঠেকাতে হবে। তা যদি না করা হয়, তবে হয়তো মাঝে মাঝে সূচক কিছুটা বাড়বে, তবে পতন পিছু ছাড়বে না। তাই সিদ্ধান্ত যাই নেয়া হোক না কেন, আগে বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজারকে কারসাজিমুক্ত করে পতন ঠেকাতে হবে।
এদিকে, আজ (০৫ নভেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরও বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭১.৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৩.০৩৭ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১০.৮২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭.৭০ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩১.০১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৮.৬২ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৫০টির দর বেড়েছে, ৮৪টির দর কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে এদিন প্রায় ৬৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১২৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১১৪টির, কমেছে ৫৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২২টির।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩৮.০৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৫৩.৪২ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ১০০.৬৫ পয়েন্ট বেড়েছিল।


