৬ এনবিএফআই অবসায়নের পথে, ঘুরে দাঁড়াতে সময় পেল ৩ প্রতিষ্ঠান

সময়: বুধবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১:৪১:৩৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং ভয়াবহ খেলাপি ঋণের বোঝায় নড়বড়ে হয়ে পড়া দেশের নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্তে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে থাকলেও আপাতত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সীমিত সময়ের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)-কে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে জমা দেওয়া পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ফাস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যা রোববার শেষ হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত কর্মপরিকল্পনা ও আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক সময় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, যা পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় আর্থিক খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও বড় কেলেঙ্কারির প্রভাব সরাসরি এসব এনবিএফআইয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে।

এদিকে অবসায়নের তালিকাভুক্ত এনবিএফআইগুলোর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত মূল অর্থ ফেরত পাবেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, আমানতকারীদের মূল টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমানতকারীরা কেবল মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ প্রদান করা হবে না। সম্পদ মূল্যায়ন শেষ হলে শেয়ারহোল্ডারদের পাওনা নির্ধারণ করা হবে।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged