সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের দাবি ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের

সময়: সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬ ৩:২০:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

সংগঠনটি আরও আহ্বান জানিয়েছে, ব্যাংক খাত থেকে অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করতে হবে এবং বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক।

তিনি জানান, গ্রাহকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। বরং পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে আবারও এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করায় গ্রাহকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্রাহকেরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় গ্রাহকদের অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।

সংগঠনের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় প্রভাব বিস্তার করে এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণের নামে বের করে নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এসব অনিয়ম রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো:

১. অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন
২. জোরপূর্বক দখল করা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া
৩. ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন
৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ
৫. বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা
৬. অভিযুক্ত লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ
৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে দেওয়া ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার

অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকের সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।’

তিনি জানান, এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ফোরামের আহ্বায়ক।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged