নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির (এনপলি) উদ্যোক্তারা তাদের অপর একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারের আওতায় আনতে উদ্যোগী হয়েছেন। কোম্পানিটির নাম শুনিভার্স ফুটওয়্যার লিমিটেড (এনপলি ফুটওয়্যার), যা সিনথেটিক উপকরণে তৈরি জুতা উৎপাদন ও রপ্তানিতে নিবেদিত।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে মোট ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষ্যে আইপিও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস পিএলসি’-কে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে শুনিভার্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদ এবং লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী ইফতেখার আলম সই করেন।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা শুনিভার্স ফুটওয়্যার সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। ময়মনসিংহে অবস্থিত কারখানাটি ২,৩১,৭১৮ বর্গফুট আয়তনের ওপর স্থাপিত এবং এখানে মাসিক গড়ে ৩,৫০,০০০ জোড়া জুতা তৈরি হয়। এই কারখানায় ২,৭০০-এর বেশি কর্মচারী কাজ করছেন।
কোম্পানির বার্ষিক পণ্য বিক্রির পরিমাণ বর্তমানে ৩২৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কারখানায় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) রয়েছে। কর্মীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র, ডে-কেয়ার সুবিধা, প্রশিক্ষণ ইউনিট ও ক্যান্টিনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আগামী দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানিটি বড় পরিসরে সক্ষমতা সম্প্রসারণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বৈশ্বিক জুতাবাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধি করাই এর মূল লক্ষ্য। বর্তমানে শুনিভার্স ফুটওয়্যারের পণ্যের মধ্যে রয়েছে সিনথেটিক স্পোর্টস শু, অ্যাথলেটিক শু, রানিং শু, ট্রেকিং শু, ক্যাজুয়াল জুতা, নারীদের জুতা, স্যান্ডাল ও চেলসিয়া বুট।
কোম্পানির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তাদের জুতা কিনে থাকেন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো—যার মধ্যে রয়েছে জারা, ফিলা, ক্যারিফোর, রেডটেপ, ডেইচম্যান, কাপ্পা এবং এমঅ্যান্ডএস।
উল্লেখ্য, শুনিভার্স ফুটওয়্যারের উদ্যোক্তাদেরই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ ১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। পাইপ ও ফিটিংস খাতে পরিচিত এই কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা এখন মোট শেয়ারের মাত্র ৩২ শতাংশ ধারণ করছেন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ পয়সা।


