কী হচ্ছে ডেফোডিল কম্পিউটার্সে?

সময়: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ ৭:২৩:২৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডেফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ার দর বেড়েছে কয়েকগুণ। স্টক এক্সচেঞ্জ থেকেও ট্রেড স্থগিতসহ একাধিকার পাঠানো হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ। কোম্পানিও বলছে, দর বৃদ্ধির অপ্রকাশিত কোন কারণ নেই। তাহলে শেয়ার দর এতো বৃদ্ধি পেলো কী কোন কারণ ছাড়াই?

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সামনে কোম্পানির কিছু মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আসবে যেগুলো কোম্পানির পরিচালক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানেন, তারা বাজারে সেই তথ্য আগাম ফাঁস করেছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ডেফোডিল কম্পিউটার্স ঋণ পরিশোধ করা জন্য ৩ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার প্রতিটি ১৫ টাকায় ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনালকে ইস্যু করার আবেদন করে। যদিও কমিশন বলেছে, এই মুহূর্ত্বে তাদের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এটির একটি প্রভাব বাজারে রয়েছে। কারণ যদি বাজারে শেয়ার দর অনেক উচ্চ মূল্য দেখানো যায়, তাহলে কোম্পানির পরিচালকদের উদ্দেশ্য সফল হবে।

এদিকে দর বৃদ্ধির কারণ জানতে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকেও একাধিকবার দেওয়া হয়েছে নোটিশ। কিন্ত জবাবে কোম্পানি বলছে, কোন কারণ নেই।

এ ব্যাপারে ডেফোডিলের কোম্পানি সচিব জানান, স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে আমাদের চিঠি দিয়েছে, আমরাও তাদের জানিয়ে দিয়েছি, দর বৃদ্ধির কোন অপ্রকাশিত তথ্য নেই।

তবে ডেফোডিলের শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, বাজারে ডেফোডিল কম্পিউটার্স নিয়ে বেশকিছু মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। কোম্পানির ফ্যাক্টরী স্থাপনের দু’বছর হলেও সরকারের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় এতোদিন এটি উদ্বোধন করা হয়নি। তবে শিগগিরই গাজীপুরের কালিয়াকৈরে করা হবে ফ্যাক্টরী উদ্বোধন। এতে দেশেই তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য। আর কোম্পানির আয় বাড়বে বহুগুন। এই খবরে ছড়িয়ে যাওয়ার পর বাজারে তৈরি হয় শেয়ার সংকট। যে কারণে দরও হু হু করে বৃদ্ধি পায়।

এ ব্যাপারে ডেফোডিল কম্পিউটার্সের সচিবও জানিয়েছেন, যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় তাহলে ফ্যাক্টরী চালু করা সম্ভব। আর এটি চালু হলে দেশে ল্যাপটপ থেকে শুরু করে ডিজিটাল পণ্যগুলো উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আর তথ্য প্রযুক্তির পণ্য এসেম্বলিতে ডেফোডিল কম্পিউটার্স হবে সেরা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে ডেফোডিল কম্পিউটার্স গেল বছর দেয়নি ডিভিডেন্ড। যে কারণে এ বছর ডিভিডেন্ড দিতে না পারলে নেমে আসবে জেড ক্যাটাগরিতে। তবে সর্বশেষ তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস ইতিবাচক এসেছে। তাই ক্যাটাগরি টিকিয়ে রাখতে ডিভিডেন্ড দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে এ কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির সব কারণই ছড়ানো হয়েছে বাজারে। তবে এসব আগাম তথ্য পুঁজিবাজার তথা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

Share
নিউজটি ৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged