নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং (সিইপিজেড) লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেনের পরিমাণে সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ জানতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পাঠানো জিজ্ঞাসার জবাব দিয়েছে কোম্পানিটি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই অস্বাভাবিক গতিবিধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তাদের জানা নেই।
কোম্পানি সচিব স্বাক্ষরিত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য ডিএসইকে জানানো হয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শেয়ারদর ও লেনদেনের অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারই প্রেক্ষিতে এই জবাব দেয় কোম্পানিটি।
মিথুন নিটিং জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণে যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে, তার জন্য কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দায়ী নয়, যা এই উত্থানে ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিএসইকে পাঠানো জবাবে কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের কারখানা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে কোম্পানির উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো পরিচালন কার্যক্রম চলমান নেই বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
কোম্পানির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা তাদের শেয়ার সম্ভাব্য নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনা যাচাই করেছিলেন। কিন্তু ব্যাংকের অনিষ্পন্ন দায় ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয়নি।
পরে কোম্পানিটি সংশ্লিষ্ট শেয়ার হস্তান্তরের আবেদনটি আপাতত স্থগিত রাখতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করে। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের এমকেডিএল/বিএসইসি/এসআরআইসি/২০২৫-৪৩৯১ নম্বর চিঠির মাধ্যমে সেই আবেদন পাঠানো হয়েছিল।
মিথুন নিটিং জানিয়েছে, বর্তমানে কোনো উদ্যোক্তা বা পরিচালকের শেয়ার হস্তান্তরের জন্য কোম্পানির কোনো অনুমোদিত বা চলমান পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি শেয়ারদর ও লেনদেনের অস্বাভাবিক উত্থানের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারে—এমন অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, করপোরেট কার্যক্রম বা অপ্রকাশিত সংবেদনশীল তথ্যও তাদের কাছে নেই বলে নিশ্চিত করেছে তারা।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, শেয়ারদর ও লেনদেনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কোনো অপ্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের কাছে নেই যা প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়টি ডিএসইর অবগতির জন্য এবং রেকর্ডের অংশ হিসেবে জানানো হয়েছে।
চিঠিটির অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এসআরআইসি বিভাগের নির্বাহী পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।


