তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক ও মার্জার-অ্যাকুইজিশনের বিধান চায় ডিবিএ

সময়: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৬:৫০:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক এবং মার্জার ও অ্যাকুইজিশন বা একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত বিধান সংযোজনের সুপারিশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের কাছে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়। একই সুপারিশ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সদয় অবগতির জন্যও পাঠানো হয়েছে।

ডিবিএর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার স্বার্থে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিজস্ব শেয়ার পুনঃক্রয়ের বা বাইব্যাকের আইনগত সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন সংশোধনের সময় প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে শেয়ার বাইব্যাকের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, তদারকি, পর্যবেক্ষণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য বিএসইসিকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও করেছে ডিবিএ।

সংগঠনটির মতে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিজেদের শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ দেওয়া হলে তাদের মূলধন ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক পরিকল্পনা এবং করপোরেট কৌশল বাস্তবায়নেও শেয়ার বাইব্যাক ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মার্জার ও অ্যাকুইজিশন কার্যক্রমে বিদ্যমান জটিলতা এবং দীর্ঘায়িত আইনি প্রক্রিয়া কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে ডিবিএ। সংগঠনটির সুপারিশ হলো, এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন এবং সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষমতাও বিএসইসির হাতে দেওয়া উচিত।

ডিবিএ বলেছে, পুঁজিবাজার এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে বিএসইসি সংশ্লিষ্ট স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অথরিটি বা বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে শেয়ার বাইব্যাক এবং মার্জার-অ্যাকুইজিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট কার্যক্রমের জন্য একটি সুস্পষ্ট, আধুনিক ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয় ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকা উচিত।

সংগঠনটির প্রত্যাশা, এ ধরনের ক্ষমতা বিএসইসিকে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা এবং করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

ডিবিএর ভাষ্য, শেয়ার বাইব্যাক এবং মার্জার-অ্যাকুইজিশন নিয়ে আধুনিক ও কার্যকর বিধিবিধান চালু করা হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট পুনর্গঠন এবং মূলধন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও দক্ষ হবে। এর ফলে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক গতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের স্বার্থ সুরক্ষার সুযোগও আরও শক্তিশালী হবে।

ডিবিএ আশা করছে, পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের গৃহীত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বাজারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে তাদের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged