বেক্সিমকোর প্রায় ২৬ একর জমিসহ সম্পত্তি নিলামে, ক্রেতাশূন্য প্রক্রিয়া

সময়: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:১৩:০২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি নিলামে তোলা হলেও কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ৯৯৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সরকারি রূপালী ব্যাংক এসব সম্পত্তি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেয়। নিলামের তালিকায় গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা প্রায় ২৬ একর জমিসহ বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নিলামে অংশ নিতে দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্স খোলা হলে দেখা যায়, সম্পত্তিগুলো কেনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দেয়নি। এর আগে জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলেছিল। সেসব নিলামেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।

রূপালী ব্যাংক চলতি বছরের ১৪ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে ব্যাংকের ৯৯৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। তবে এই পাওনার মধ্যে অনাদায়ী সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে বন্ধক রাখা সম্পত্তিগুলো যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থাতেই নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বেক্সিমকো লিমিটেড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ১০৯ কোটি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৩ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের পাওনা ৯৯৩ কোটি টাকার বিপরীতেই সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলো নিলামে তোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই ঋণ প্রথমে বেক্সিমকোর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান পদ্মা ও বেক্সিমকো নিটিংয়ের নামে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান দুটি একীভূত হয়ে বেক্সিমকো টেক্সটাইলে বা বেক্সটেক্সে পরিণত হয়। এরপর বেক্সটেক্সও বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত করা হয়।

নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জের তারাব ও যাত্রামুরা মৌজায় থাকা বেক্সিমকোর বন্ধকী জমির বিবরণও দেওয়া হয়। তারাব মৌজার দুটি অংশে মোট ৮ দশমিক ৩৯ একর এবং যাত্রামুরা মৌজায় আরও ৯ দশমিক ২ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ এসব তফসিলে নারায়ণগঞ্জে মোট ১৭ দশমিক ৪১ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে গাজীপুরে ৮ দশমিক ৫৫ একরসহ বিভিন্ন এলাকার আরও জমি নিলামের তালিকায় রাখা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা একাধিক তফসিলের জমির বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোনো তফসিলে জমির পরিমাণ একরে এবং কোথাও শতাংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিলামে অংশগ্রহণের জন্য কোনো দরপত্র জমা না পড়ায় পুরো নিলাম প্রক্রিয়াই ক্রেতাশূন্য থেকে যায়।

এ বিষয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিলাম প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, এ ধরনের নিলাম অনেক সময় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আয়োজন করা হয়। তার মতে, এমন নিলামে অনেক সময় আগ্রহী ক্রেতা নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকের হাতে থাকা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিলাম আয়োজন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে এবং বর্তমানে সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় ঋণ আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংক গ্রাহকের বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তুলেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ আদায়ের জন্য বেক্সিমকোর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি প্রচলিত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়াই ব্যাংকের করণীয়।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged