ডিএসইর চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত তদন্তে উদ্যোগ

সময়: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬ ৫:১১:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে এবং একতরফাভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ তুলে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আব্দুল লতিফ। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

গত বৃহস্পতিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়। উপসচিব ফারজানা জাহানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডিএসইর সাবেক ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফ ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) কর্তৃক বেআইনি ও একতরফা চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন’ শীর্ষক একটি আবেদন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে দাখিল করেন।

ওই আবেদনের আলোকে বিষয়টি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনপত্রটি চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব, অতিরিক্ত সচিব (বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগ) এবং আবেদনকারী মো. আব্দুল লতিফের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ জুন কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ডিএসইর জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফ ও হোসনে আরা পারভীন, আইসিটি বিভাগের জিএম শাহিন সারওয়ার এবং ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ডের সমন্বয়কারী ডিজিএম আব্দুর রাজ্জককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ৫ জুলাই মো. আব্দুল লতিফ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৫ জুন ডিএসই কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শুধুমাত্র ‘পদের আর প্রয়োজনীয়তা নেই’—এই কারণ দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করে এবং সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তিনি ডিএসইতে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরিকালে তার কর্মদক্ষতা বা আচরণ নিয়ে কখনো কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এমন অবস্থায় কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত শ্রম আইন, চাকরির বিধিমালা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নীতিমালার পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।

মো. আব্দুল লতিফ আরও বলেন, দীর্ঘদিনের একজন স্থায়ী কর্মকর্তাকে এভাবে আকস্মিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া শুধু আইনবিরোধী নয়, এটি মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন। এ সিদ্ধান্তের ফলে তিনি ও তার পরিবার আর্থিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পেশাগত ও সামাজিক সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিএসইর কাছ থেকে এ ধরনের অস্বচ্ছ ও আইনবহির্ভূত আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

এ পরিস্থিতিতে তিনি ডিএসইর চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বাতিল, চাকরির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাসহ তাকে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পদে পুনর্বহালের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসির কাছে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

Share
নিউজটি ১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged