অনিয়ম ঠেকাতে ১০০ ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনে যাচ্ছে বিএসইসি

সময়: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬ ৬:২৮:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে সুশাসন নিশ্চিত, সম্ভাব্য অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম  বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করতে কমিশন তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করছে। কমিশনের লক্ষ্য কোনো অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; বরং আগে থেকেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করা, যাতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। তিনি আরও বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ধীরে ধীরে ফিরে আসছে।

প্রথম দফায় পরিদর্শনের জন্য নির্বাচিত আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে— শ্যামল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, ভিশন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, হাওলাদার ইক্যুইটি সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, এরশাদ সিকিউরিটিজ, আর চৌধুরী সিকিউরিটিজ, এসএআর সিকিউরিটিজ এবং এমএএইচ সিকিউরিটিজ। এছাড়া লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজম সিকিউরিটিজ ও সিনথিয়া সিকিউরিটিজও পরিদর্শনের আওতায় থাকবে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১০টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিদর্শন দলকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় ব্রোকারেজ ও ডিলার কার্যক্রম, সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের অবস্থা, গ্রাহকদের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা, কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) পরিচালনা এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত (এএমএল/সিএফটি) বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে।

এদিকে বিএসইসি ইতোমধ্যে অনুমোদিত ভেন্ডরের মাধ্যমে দেশের সব ব্রোকারেজ হাউজে অভিন্ন এবং সম্পাদন-অযোগ্য (আনএডিটেবল) ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। কমিশনের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন চালু হলে ব্রোকারেজ খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে অতীতের মতো গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করাও সহজ হবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তদারকি আরও কার্যকর করতে কমিশন নিয়মিত ও ঘন ঘন অডিট এবং পরিদর্শনের ব্যবস্থা করছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged