নিজস্ব প্রতিবেদক: মেয়াদি বা ক্লোজএন্ড মিউচুয়াল ফান্ডকে বে-মেয়াদি ওপেনএন্ড ফান্ডে রূপান্তরের জন্য নতুন গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
বিএসইসি বলছে, ক্লোজএন্ড ফান্ড অবসায়নের পরিবর্তে ওপেনএন্ড কাঠামোয় রূপান্তর করা হলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি সুরক্ষা ও আর্থিক সুবিধা পাবেন। কারণ ওপেনএন্ডে রূপান্তরের পর ইউনিটহোল্ডাররা নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ভিত্তিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা লিকুইডেশনের চেয়ে অধিক লাভজনক ও নিরাপদ। একই সঙ্গে এতে বাজারে অতিরিক্ত বিক্রয়চাপও কমবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৬২(২) ও ৬৩ অনুসারে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্লোজএন্ড ফান্ডকে ওপেনএন্ড ফান্ডে রূপান্তর করা যাবে। কোনো ফান্ডের ছয় মাসের গড় বাজারদর যদি এনএভির তুলনায় ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ডিসকাউন্টে অবস্থান করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিকে ইউনিটহোল্ডারদের মতামত নেওয়ার জন্য বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আহ্বান করতে হবে।
গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টিকে রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বোর্ড সভার অন্তত ১৪ কার্যদিবস আগে এবং সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রেকর্ড ডেট নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা থাকবে। একই সঙ্গে বিষয়টি মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) হিসেবে জাতীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি ও অ্যাসেট ম্যানেজারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর কমপক্ষে ২১ দিনের নোটিশ দিয়ে ইউনিটহোল্ডারদের মতামত গ্রহণের জন্য ইজিএম আয়োজন করতে হবে। সভায় তিন থেকে চারজন ইউনিটহোল্ডার রূপান্তরের বিপক্ষে ভোট দিলে ফান্ড লিকুইডেশনের পথে যাবে। অন্যদিকে রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন না পেলে ফান্ডটির স্বাভাবিক লেনদেন আবার চালু হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর থেকে ইউনিট লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। কার্যকর তারিখের তিন দিনের মধ্যে ট্রাস্টি ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে পুরো রূপান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
এসজিএম আয়োজনের আগে কমিশনের কাছে তথ্য স্মারক জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। ওই স্মারকে সর্বশেষ পোর্টফোলিও, এনএভি, সম্ভাব্য রূপান্তর ব্যয়, আগের আর্থিক পারফরম্যান্স, ডিভিডেন্ড ইতিহাস এবং নতুন ফান্ড কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন অডিটরের মাধ্যমে অডিট ও ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, ওপেনএন্ড ফান্ডে রূপান্তরের পর ইউনিটগুলো ডিমেট আকারে থাকবে। ফলে ইউনিটহোল্ডাররা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ইউনিট সারেন্ডার করে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে রূপান্তর ব্যয় মোট ফান্ড সাইজের ১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক ক্লোজএন্ড ফান্ড গভীর ডিসকাউন্টে লেনদেন হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত সম্পদ মূল্যের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নতুন গাইডলাইনের মাধ্যমে ওপেনএন্ডে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ইউনিটহোল্ডাররা এনএভি ভিত্তিক সুবিধা পাবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিট সারেন্ডার করে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ফান্ড লিকুইডেশনের ক্ষেত্রে সম্পদ বিক্রি করতে হওয়ায় বাজারে সেল প্রেসার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু ওপেনএন্ডে রূপান্তরের ক্ষেত্রে আন্ডারলাইং অ্যাসেট বিক্রির প্রয়োজন হয় না। ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং বিনিয়োগকারীরাও তুলনামূলক বেশি লাভবান হবেন।
মো. আবুল কালাম জানান, রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর বাজারদর ধীরে ধীরে এনএভির কাছাকাছি চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারবেন যে ওপেনএন্ড কাঠামোয় রূপান্তরের মাধ্যমে তারা প্রকৃত সম্পদ মূল্যের ভিত্তিতে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্লোজএন্ড ফান্ডকে ওপেনএন্ডে রূপান্তর বা অবসায়নের গাইডলাইন প্রণয়নের জন্য বিএসইসি পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যুগ্ম পরিচালক সুলতানা পারভীন, সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ খান ও মো. তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম সদস্য হিসেবে ছিলেন। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. সাগর ইসলাম।


