বিমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া, নিষ্পত্তির হার ৭৫ শতাংশে নিতে চায় আইডিআরএ

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৮:৩২:৫৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিমা খাতে গ্রাহকদের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে সামগ্রিকভাবে দাবি নিষ্পত্তির হার ৫৭ শতাংশ। এই হার অন্তত ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আইডিআরএ’র কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে দ্বিতীয় দফায় গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, বকেয়া দাবি পরিশোধের বিষয়টি দুই ধরনের কৌশলে মোকাবিলা করা হচ্ছে। একদিকে বিভিন্ন বিমা কোম্পানির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে দাবি পরিশোধে বাধা ও কমপ্লায়েন্সসংক্রান্ত বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সংকটে থাকা কয়েকটি কোম্পানিকে আলাদাভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমাদের ক্লেইম ডিসপোজাল রেট হচ্ছে ৫৭ শতাংশ। যে ইন্ডাস্ট্রির ৫৭ শতাংশ ডিসপোজাল রেট হয়, তার বকেয়া তো অনেক বেশি থাকে। আইডিআরএর হিসাবে টোটাল সেক্টরের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ডিউ (বকেয়া) রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান ‘গভর্ন্যান্স রিভিউ মিটিং’ করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে কোম্পানিগুলো কেন দাবি পরিশোধ করতে পারছে না বা কোন কোন সমস্যার কারণে তা আটকে আছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক ও কমপ্লায়েন্সসংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, সংকটে থাকা সাত-আটটি কোম্পানিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে কাজ করা হচ্ছে। তবে শুধু এসব কোম্পানির ওপরই আইডিআরএ নজর দিচ্ছে না; পুরো বিমা খাতের দাবি নিষ্পত্তি পরিস্থিতি উন্নয়নে একটি সামগ্রিক বা ‘হোলিস্টিক’ পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের ৮২টি বিমা কোম্পানির মধ্যে জীবন বিমার প্রায় আটটি কোম্পানি বাদ দিলে বাকি প্রায় ৭২টি কোম্পানির কার্যক্রমও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব কোম্পানির মধ্যে যেগুলো মাঝারি পর্যায়ের সমস্যায় রয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনার পাশাপাশি গ্রাহকদের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ওভারঅল অবজেক্টিভটা হচ্ছে এই ৫৭ শতাংশকে আমরা অন্তত ৭৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই। অন্তত ৭৫ শতাংশ যদি আমরা সেক্টরওয়াইজ যেতে পারি, তাহলে আমরা একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারব।”

এদিকে, অপরিশোধিত দাবি নিষ্পত্তির ধারাবাহিকতায় সোমবার দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি বিমা কোম্পানির ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর দাবি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই দফায় মোট ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকার অপরিশোধিত বিমা দাবি পরিশোধ করা হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচটি কোম্পানির সারাদেশের পলিসিধারীদের দাবির বিপরীতে এসব অর্থ পরিশোধ করা হবে।

এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ বিমা দাবি নিষ্পত্তির পাশাপাশি পলিসিধারীদের আস্থা পুনর্গঠনে আরও একটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আইডিআরএর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিমা খাতে দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত বৈধ দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা ও সমস্যাগুলো আলাদাভাবে বিবেচনায় নিয়ে দাবি পরিশোধের হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইডিআরএ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৩ হাজার ৬০০ জন পলিসিধারীর ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হবে। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এক হাজার ১৪৫ জন পাবেন ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮ হাজার ৫১৪ টাকা। এছাড়া ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৮০ জন পলিসিধারীর ৫ কোটি টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩০০ জনের ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৪৩ জন পলিসিধারীর ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ টাকা পরিশোধ করা হবে। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফায় ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা বিমা দাবি নিষ্পত্তি হচ্ছে।

এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর আইডিআরএর উদ্যোগে প্রথম দফায় সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ জন পলিসিধারীর বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়। ওই দফায় মোট ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সা পরিশোধ করা হয়।

দুই দফা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৪১৭ জন পলিসিধারীর ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ টাকা ৫৮ পয়সা বিমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Share
নিউজটি ১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged