নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে দরপতনের প্রবণতা অব্যাহত ছিল। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই মূল্যসূচক নিম্নমুখী থাকায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এর প্রভাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ১১১ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচকসহ সব সূচকই পতনের মুখে পড়েছে। তবে দরপতনের মধ্যেও বাজারে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতনের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। সপ্তাহজুড়ে মোট ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। এ ছাড়া ২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের অবস্থানে অপরিবর্তিত রয়েছে।
অর্থাৎ সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই দরপতনের তালিকায় অবস্থান করেছে। এতে বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাপ্তাহিক লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।
সেই হিসাবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ১১১ কোটি টাকা।
বাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার মূলধনেও এই বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বিশেষ করে সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিন সূচক কমায় বাজার মূলধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকসহ অন্য দুটি সূচকও নিম্নমুখী ছিল।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৩ দশমিক ১৯ পয়েন্ট কমেছে। শতাংশের হিসাবে সূচকটির পতনের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।
একই সময়ে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক বা ডিএসইএস কমেছে ১৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। শতাংশের হিসাবে সূচকটির পতন হয়েছে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, বাছাই করা ভালো মানের ৩০টি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সপ্তাহজুড়ে ১৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট হারিয়েছে। সূচকটির পতনের হার ছিল শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ।
তিনটি সূচকের মধ্যে শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে শরিয়াহ সূচকে। এরপর রয়েছে ডিএসই-৩০ এবং প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।
বিদায়ী সপ্তাহে সূচক ও বাজার মূলধন কমলেও লেনদেনের ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৪৫০ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।
সেই হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
অর্থাৎ শেয়ারবাজারে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন এবং মূল্যসূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও তা শেয়ারদরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দরপতনের সংখ্যা দরবৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল।
একদিকে দৈনিক গড় লেনদেন ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ১১১ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স, শরিয়াহ সূচক এবং ডিএসই-৩০ সূচকেও পতন ঘটেছে।
ফলে বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারবাজারের সার্বিক চিত্রে লেনদেন বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক থাকলেও সূচক, বাজার মূলধন ও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবণতাই প্রাধান্য পেয়েছে।
সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের চার দিন সূচক কমার পাশাপাশি ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন বাজারের দুর্বল অবস্থানকেই সামনে এনেছে। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে শেয়ার কেনাবেচার গতি কিছুটা বেড়েছে।


