নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৬টি কোম্পানি তাদের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বেড়েছে, কোনোটি লোকসানে পড়েছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের লোকসান আগের তুলনায় কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, প্রগতী ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, যমুনা ব্যাংক, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, সাউথইস্ট ব্যাংক, সিঙ্গার বাংলাদেশ, হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স এবং আলহাজ টেক্সটাইল।
সাউথইস্ট ব্যাংকের ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৯ পয়সা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা, যেখানে এক বছর আগে ছিল ১ টাকা। একই সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে হয়েছে ৩৯ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২ টাকা ৩৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৭ টাকা ১৬ পয়সা।
ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৮৪ পয়সা থেকে সামান্য কম। তবে ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে ১ টাকা ৯৪ পয়সা হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ১ টাকা ৭৮ পয়সা। একই সময়ে এনওসিএফপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৭ পয়সা এবং ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৪৭ পয়সা।
অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৩৪ পয়সা ইপিএস অর্জন করেছে, যেখানে আগের বছর ছিল ১৪ পয়সা। বছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ৫০ পয়সা, যা আগের বছরের ৪৮ পয়সার চেয়ে বেশি। এনওসিএফপিএস বেড়ে হয়েছে ৩৫ পয়সা এবং এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৯২ পয়সা।
সিঙ্গার বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৩৬ পয়সা আয় হয়েছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১১ পয়সা লোকসানে ছিল। তবে চলতি বছরের ছয় মাস শেষে শেয়ারপ্রতি লোকসান ৪ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছরের ৬ টাকা ৬১ পয়সার তুলনায় কম। এনওসিএফপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট দায় ছিল ২ টাকা ৫৫ পয়সা।
হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯ পয়সা লোকসান করেছে। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৪৭ পয়সা। ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৯৬ পয়সা, যেখানে আগের বছর ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৯৫ পয়সা। এনওসিএফপিএস মাইনাস ৮৯ পয়সা এবং এনএভিপিএস ছিল ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা।
রূপালী ব্যাংক এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৯ পয়সা লোকসান করেছে। আগের বছরের একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস ছিল ৩ পয়সা। ছয় মাসে সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৪৮ পয়সা। এনওসিএফপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ৩০ জুন সমন্বিত এনএভিপিএস ছিল ৯ টাকা ৩৭ পয়সা।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ২৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ টাকা ৩৩ পয়সা লোকসানের চেয়ে বেশি। বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১৫ পয়সা। একই সময়ে এনওসিএফপিএস বেড়ে ৯ টাকা ৭৫ পয়সা হয়েছে এবং ৩০ জুন সমন্বিত এনএভিপিএস ছিল ১০ টাকা ৪৪ পয়সা।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস করেছে ১ টাকা ৬৫ পয়সা, যা আগের বছরের ১ টাকা ৪৩ পয়সার চেয়ে বেশি। ছয় মাসে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৭৭ পয়সা। এনওসিএফপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা এবং ৩০ জুন সমন্বিত এনএভিপিএস ছিল ২৪ টাকা ৩৩ পয়সা।
যমুনা ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়েছে। ছয় মাসে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৩ পয়সা। একই সময়ে এনওসিএফপিএস হয়েছে ৫২ টাকা ৩৮ পয়সা এবং সমন্বিত এনএভিপিএস ছিল ৩০ টাকা ৫৪ পয়সা।
ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৮০ পয়সা, যা আগের বছরের ২৯ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ছয় মাসে ইপিএস বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৪৫ পয়সা। এনওসিএফপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা এবং ৩০ জুন এনএভিপিএস ছিল ৩৮ টাকা ২২ পয়সা।
ইউনিয়ন ক্যাপিটাল দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১৮ পয়সা লোকসান করেছে, যেখানে আগের বছর লোকসান ছিল ১ টাকা ৫৩ পয়সা। ছয় মাসে লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১২ পয়সা। একই সময়ে এনওসিএফপিএস মাইনাস ১৮ পয়সা এবং ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট দায় ছিল ৬৭ টাকা ৬১ পয়সা।
আলহাজ টেক্সটাইল একসঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫২ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫৫ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৩০ পয়সা। প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩ টাকা ৩৯ পয়সার তুলনায় কম। সংশ্লিষ্ট তিন প্রান্তিকের এনওসিএফপিএস ও এনএভিপিএসও প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি।
প্রগতী ইন্স্যুরেন্স দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা আয় করেছে, যা আগের বছরের ১ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়েছে। ছয় মাসে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা। একই সময়ে এনওসিএফপিএস হয়েছে ২ টাকা এবং ৩০ জুন এনএভিপিএস ছিল ৫৭ টাকা ৪৩ পয়সা।
প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৯৮ পয়সা ইপিএস অর্জন করেছে, যেখানে আগের বছর ছিল ৪০ পয়সা। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ১৯ পয়সা। এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৯৫ পয়সা এবং ৩০ জুন এনএভিপিএস ছিল ২৯ টাকা ৮৬ পয়সা।
ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা আয় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ টাকা ২১ পয়সার চেয়ে বেশি। ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা। একই সময়ে এনওসিএফপিএস বেড়ে ২ টাকা ৯২ পয়সা হয়েছে এবং ৩০ জুন এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা।


