ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিথিল করল পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের শর্ত

সময়: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৩, ২০২৫ ২:১৫:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য গঠিত ২৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের জন্য যোগ্যতার শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের ২০ শতাংশ পর্যন্ত খেলাপি থাকলেও তারা এ তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবে। এর আগে, ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি থাকলে প্রতিষ্ঠানটি অযোগ্য হিসেবে গণ্য হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট বুধবার (১২ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুনঃঅর্থায়ন ও প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীবিন্যাসিত ঋণ ও বিনিয়োগের সর্বোচ্চ হার এখন ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পূর্বের অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উদ্যোক্তাদের চাহিদা বিবেচনায় স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে তিন বছর মেয়াদি এই ২৫ হাজার কোটি টাকার স্কিম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে।

২০২২ সালের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিএমএসএমই খাতে মেয়াদি ঋণের বিপরীতে ‘সিএমএসএমই খাতে মেয়াদি ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই তহবিল থেকে ২ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করবে। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারিত হয়েছে ৭ শতাংশ।

প্রাথমিকভাবে স্কিমের মেয়াদ তিন বছর নির্ধারণ করা হলেও, গ্রাহক পর্যায়ে গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। তহবিল প্রয়োজনে আরও বৃদ্ধি করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন উদ্যোক্তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারি (যেমন নদী ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, মঙ্গা, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, কোভিড-১৯ ইত্যাদি) ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে ঋণ বিতরণ করতে হবে।

এছাড়া বিতরণ করা মোট ঋণের ন্যূনতম ৭০ শতাংশ উৎপাদন ও সেবা খাতে এবং সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ব্যবসা খাতে বিতরণ করতে হবে। এর মধ্যে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারত যদি তাদের শ্রেণীকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের হার ১০ শতাংশের নিচে থাকে এবং অন্তত তিন বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকে। নতুন নির্দেশনায় এই হার ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

গত বছরের আগস্ট থেকে সরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের বিপুল খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ হতে শুরু করে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ এখন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকায়। সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপির হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, আর বেসরকারি খাতেও এটি ১০ শতাংশের বেশি।

Share
নিউজটি ৮১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged