ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদ গঠনের দাবিতে গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচি

সময়: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২৬ ১২:৪৭:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সমাবেশ থেকে দাবি পূরণে আগামী ১৪ জুলাই দেশের সব জেলা সদর এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে ১৮ জুলাই মহাসমাবেশ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠনের দাবি
সমাবেশে ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকে একটি গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসবে না। বর্তমানে গ্রাহকদের মধ্যে তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চেয়ারম্যান নিয়োগের পর গ্রাহকদের প্রতিবাদের মুখে তা পরিবর্তন করতে বাধ্য হলেও পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একজন নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে ব্যাংক পরিচালনার সব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের মতো বৃহৎ একটি ব্যাংক দীর্ঘদিন একজন ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সমীচীন নয়।

সময়ক্ষেপণের অভিযোগ
নুরুন্নবী মানিক অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে নানান প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অতীতে ব্যাংকটির পরিচালনায় থাকা সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের পাশাপাশি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরবর্তী কর্মসূচি
তিনি সমাবেশে ঘোষণা দেন, আগামী ১৪ জুলাই দেশের সব জেলা সদর এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ১৮ জুলাই সারাদেশের গ্রাহকদের নিয়ে মহাসমাবেশ করা হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের দাবি
সমাবেশে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি দ্রুত সংসদে বিল আকারে পাস করে আইনে পরিণত করতে হবে, যেন ব্যাংক লুটেরাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনায় অংশ নিতে না পারেন।

অন্যান্য দাবি
তিনি আরও দাবি করেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণার দ্রুত গেজেট প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপসহ সংশ্লিষ্টদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের ঋণের সঙ্গে সমন্বয় করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।

গ্রাহকদের বক্তব্য
সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্য ইয়াসিন বলেন, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর এখনো নতুন পর্ষদ গঠন না হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি ২০১৭ সালের আগে দায়িত্বে থাকা পরিচালনা পর্ষদের অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য সদস্যদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

ইয়াসিন বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে, খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে এবং এস আলম গ্রুপের শেয়ার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করতে হবে।

সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ গ্রাহক অংশ নেন। পরে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে অগ্রসর হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের এই আন্দোলন ব্যাংকটির শাসন ব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা পর্ষদ সংকট আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা।

 

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged