কারসাজিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা নতুন বিএসইসি চেয়ারম্যানের, লক্ষ্য ইমার্জিং মার্কেট

সময়: বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬ ৭:৪০:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে কারসাজি, অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অতীতের চেয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজারের সততা, শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারী সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। যারা কারসাজি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বিএসইসির কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নবনিযুক্ত তিন কমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দূরীকরণে উদ্যোগ

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ খান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুশাসন, তথ্য প্রকাশ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসন নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। কমিশন এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং পদ্ধতিগতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, তথ্য প্রকাশের মান উন্নত করা হবে, পুঁজিবাজারে ডিজিটাইজেশন আরও বাড়ানো হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বাজারের মধ্যস্থতাকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, পেশাজীবী সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের আশ্বাস দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমরা পরামর্শ নিতে এসেছি। গঠনমূলক সমালোচনার প্রতি আমরা উন্মুক্ত থাকব।

ফ্রন্টিয়ার থেকে ইমার্জিং মার্কেটে উত্তরণ

দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও সেই গতির সঙ্গে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে মাসুদ খান বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশের পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী নির্ভর ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নির্ভর উদীয়মান বাজারে (ইমার্জিং মার্কেট) রূপান্তর করা।

মিউচুয়াল ফান্ডকে পুঁজিবাজারের অন্যতম শক্তিশালী উপকরণ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অনেক ভালো কোম্পানি এখনও বাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। একটি প্রাণবন্ত ও কার্যকর পুঁজিবাজারের জন্য মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকাভুক্তি জরুরি। এ সময় তিনি জানান, কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণ ও মূলধনের পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে সেই প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কমিশনারদের প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি

নবনিযুক্ত কমিশনার নাফিজ-আল-তারিক বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থার সংকটের সময়ে তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। টিম হিসেবে কাজ করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। আরেক কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। অপর নতুন কমিশনার নাহিদ মাহতাব বলেন, বিদ্যমান আইন-কানুন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সম্ভব।

আঞ্চলিক পাওয়ারহাউসে পরিণত করার লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু বাজারকে ঠিক করা নয়, বরং এটিকে একটি আঞ্চলিক পাওয়ারহাউসে পরিণত করা।

তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের মধ্যে আর্থিক জ্ঞান বা ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী সম্পর্কেও পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, পুঁজিবাজার কোনো সেভিংস অ্যাকাউন্ট নয়। এখানে ঝুঁকি রয়েছে এবং সেই ঝুঁকির দায় বিনিয়োগকারীকেই নিতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই উল্লেখ করে তানভীর গনি বলেন, আমাদের বলা হয়েছে সেরা ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিতে এবং ফল নিশ্চিত করতে।

পুঁজিবাজার নতুন গতি পাবে আশা

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, নানা কারণে দেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ব্যাংকিং খাতের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি জনগণের সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে পুঁজিবাজার নতুন গতি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged