কারসাজির আশঙ্কায় ৬২ কোম্পানিকে নজরদারিতে রাখছে ডিএসই

সময়: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬ ১:৩৬:০৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মোট ৬২টি কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে, আর ৩০টি কোম্পানিকে আর্থিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিএসই সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে পৃথক দুটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আর্থিকভাবে দুর্বল এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কার্যত ‘রেড এলার্ট’ জারি করে বাজারসংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সম্প্রতি কার্যক্রম বন্ধ ও দুর্বল ভিত্তির বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্যামপুর সুগার মিলস ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল কোম্পানিগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে সতর্কতা জারি করল ডিএসই।

ডিএসই প্রকাশিত বন্ধ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত, আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, এমারেল্ড অয়েল, খুলনা পাওয়ার, মেঘনা পিইটি, নিউলাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট, প্রাইম টেক্সটাইলস, রহিমা ফুড, আরএসআরএম স্টিল, শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাসসহ মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠান।

তবে সতর্কতামূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর শেয়ারদরে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সর্বশেষ লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, ৩২টি বন্ধ কোম্পানির মধ্যে ২২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে হামিদ ফেব্রিকস, প্রাইম টেক্সটাইলস এবং নিউলাইন ক্লথিংসের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে গত ৪ জুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাসুদ খান। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি বাজার কারসাজি প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিএসইসির নির্দেশনার পর ডিএসই দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনের আলোকে ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি আবার বন্ধ প্রতিষ্ঠানের তালিকাতেও রয়েছে। ফলে কার্যকরভাবে ৩০টি সচল কোম্পানিকে উচ্চ ঝুঁকির আওতায় রেখেছে ডিএসই।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিডিথাই ফুড, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মেঘনা সিমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং এবং ঝিল বাংলা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইর এ পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির মৌলভিত্তি দুর্বল অথবা দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের বাড়তি সতর্কতা ও গভীর যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

Share
নিউজটি ৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged