দুই ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন

মিউচুয়াল ফান্ড রূপান্তরে কেটে গেল আইনি জট, স্বস্তিতে ইউনিটহোল্ডাররা

সময়: বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬ ১১:৩৬:৪৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদি বা ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তার অবসান ঘটতে শুরু করেছে। ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডকে বেমেয়াদি (ওপেন-এন্ড) ফান্ডে রূপান্তর অথবা অবসায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি প্রতিবন্ধকতা আপাতত দূর হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থা আদেশ স্থগিত করায় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়েছে।

এর আগে কয়েকজন ইউনিটহোল্ডারের দায়ের করা রিট আবেদনের পর হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর রূপান্তর ও অবসায়ন কার্যক্রমে দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত সেই স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন।

বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড রূপান্তর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কমিশন গত ৯ জুন জারি করেছিল। তবে হাইকোর্টে রিট হওয়ার পর ১১ জুন ট্রাস্টিদের জানানো হয় যে, স্থিতাবস্থার সুবিধা শুধুমাত্র রিটকারী ইউনিটহোল্ডারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অন্য ইউনিটহোল্ডারদের জন্য রূপান্তর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ আদালতের আদেশের ফলে সেই সীমাবদ্ধতাও আর নেই। এখন কোনো ইউনিটহোল্ডারই এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছেন না। ফলে ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে। ক্লোজড-এন্ড ফান্ডকে ওপেন-এন্ডে রূপান্তর কিংবা অবসায়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

নতুন বিধিমালার আলোকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি হওয়া ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫’-এ মেয়াদি ফান্ড রূপান্তরের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ফান্ডের ইউনিটের গড় বাজারদর যদি গেজেট প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে ক্রয়মূল্য অথবা ঘোষিত নিট সম্পদমূল্যের (এনএভি) মধ্যে যেটি বেশি, তার তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিকে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করতে হবে।

ইজিএমে উপস্থিত ভোটদানকারী ইউনিটহোল্ডারদের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশের সমর্থন এবং বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে ফান্ডটিকে ওপেন-এন্ডে রূপান্তর অথবা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এ বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি বছরের ৭ মে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি।

তবে কমিশনের ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে কয়েকজন ইউনিটহোল্ডার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তাদের দাবি ছিল, ২০১৮ সালের সরকারি গেজেটের মাধ্যমে যেসব ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল, সেগুলোর বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে ইউনিটহোল্ডারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।

রিটের শুনানি শেষে গত ২১ মে হাইকোর্ট বিএসইসির ৭ মে জারি করা নির্দেশনা এবং ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫’-এর ৬২, ৬৩ ও ৬৪ নম্বর বিধির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে দুই মাসের জন্য রূপান্তর ও অবসায়ন কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের ওই আদেশের পর কয়েকটি ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান তাদের অধীনস্থ ফান্ডগুলোর ইজিএম আয়োজনের প্রস্তুতি স্থগিত করে। পাশাপাশি বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) অবহিত করা হয়।

এরপর ১১ জুন বিএসইসি ট্রাস্টিদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানায়, হাইকোর্টের আদেশ কেবল রিটকারী ইউনিটহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য সব ইউনিটহোল্ডারের ক্ষেত্রে কমিশনের নির্দেশনা কার্যকর থাকবে এবং রূপান্তর অথবা অবসায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

সর্বশেষ চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে এখন সব মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে ইউনিটহোল্ডারদের ভোটের মাধ্যমে। উপস্থিত ভোটদাতাদের অন্তত ৭৫ শতাংশ যে সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেবেন এবং বিএসইসির অনুমোদন পাওয়া যাবে, সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ফান্ডগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইউনিটহোল্ডারদের মতামতই চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করবে।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged