বিশেষ নিরীক্ষায় ধরা পড়ল উত্তরা ফাইন্যান্সের বড় অনিয়ম, প্রকাশ পুনঃউপস্থাপিত প্রতিবেদন

সময়: সোমবার, জুলাই ৬, ২০২৬ ৫:১৫:১৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড (ইউটিটিএআরএএফআইএন) ২০১৯ (পুনঃউপস্থাপিত), ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরের নিরীক্ষিত সমন্বিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস), শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ও শেয়ারপ্রতি পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের (এনওসিএফপিএস) চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের পুনঃউপস্থাপিত সমন্বিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৪৩ পয়সা। অথচ ২০১৮ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৮ টাকা ২৭ পয়সা।

একই সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ৫৫ পয়সা, যা ২০১৮ সালের ৫৫ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অন্যদিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১৩ টাকা ২৪ পয়সা, যেখানে ২০১৮ সালে এটি ছিল ঋণাত্মক ২১ টাকা ৫৫ পয়সা।

কোম্পানি জানিয়েছে, ২০১৯ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল এবং ওই বছরের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)ও সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরআরএইচ (কেপিএমজি) পরিচালিত বিশেষ নিরীক্ষায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ ভিত্তিক বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত হওয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ২০১৯ সালের আর্থিক বিবরণী পুনঃউপস্থাপন (রিস্টেটেড) করা হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত সমন্বিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৫ টাকা ৯৮ পয়সা, যা আগের বছর পুনঃউপস্থাপিত লোকসান ২৩ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বেড়েছে।

২০২০ অর্থবছরের শেষে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৯ টাকা ২৬ পয়সা, যেখানে ২০১৯ সালের পুনঃউপস্থাপিত হিসাবে তা ছিল ২৯ টাকা ৫৫ পয়সা। একই সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১২ টাকা ৪ পয়সা, যা আগের বছরের ১৩ টাকা ২৪ পয়সা থেকে কমেছে।

৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত সমন্বিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা, যা ২০২০ সালের ৩৫ টাকা ৯৮ পয়সা লোকসানের তুলনায় কমেছে।

তবে ২০২১ সালের শেষে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩২ টাকা ৭৪ পয়সা, যা ২০২০ সালের ঋণাত্মক ৯ টাকা ২৬ পয়সা থেকে আরও খারাপ হয়েছে। এছাড়া সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ২০ টাকা ৩৮ পয়সা, যেখানে আগের বছর এটি ছিল ১২ টাকা ৪ পয়সা।

কোম্পানি আরও জানিয়েছে, ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনের নির্ধারিত সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে। ফলে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সব বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন এবং সেগুলোর নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর এজিএম আয়োজনের অনুমতি চেয়ে সম্মানিত হাইকোর্টে আবেদন করা হবে।

হাইকোর্ট থেকে এজিএম আয়োজনের অনুমতি পাওয়ার পর কোম্পানি রেকর্ড ডেট এবং বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখসহ প্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের জানাবে।

 

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged