নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে বিগত সরকারের সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে জানান, এসব মামলায় মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে ৪২৮ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ট্রেডিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, দেশের অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনায় সরকার কোনো ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, “জনগণের সম্পদ লুটে যারা বিদেশে অর্থ পাচার করেছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে—এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান অনড়।”
অন্যদিকে, দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তায় ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল আগের ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত স্বল্প সুদে ঋণ পাবেন।
কৃষি খাতেও স্বস্তি এনেছে সরকার। তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের হয়ে ব্যাংকগুলোতে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।


