নয় মাসে আমরা টেকনোলোজিসের লোকসান প্রায় দ্বিগুণ

সময়: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১১:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আমরা টেকনোলোজিসের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়ে ১ টাকা ৮৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহও ঋণাত্মক হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি জানিয়েছে, জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩৩ পয়সা।

নয় মাসের হিসাব:
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৭ পয়সা।

নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক ১৮ পয়সায় নেমেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সূচক ছিল ১ টাকা ৩৩ পয়সা।

২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৬২ পয়সায়। ২০২৫ সালের ৩০ জুন এ মূল্য ছিল ১৮ টাকা ৪৬ পয়সা।

অবনতির কারণ:
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শেয়ারপ্রতি আয়সহ সব প্রধান আর্থিক সূচক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় ও সরবরাহকারীদের পরিশোধের ক্ষেত্রে অনুকূল পরিস্থিতি থাকলেও নগদ সংগ্রহে বড় ধরনের পতন এবং অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিট পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

এছাড়া ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত নয় মাসে কোম্পানির লোকসানের কারণে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকের চিত্র:
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৬৭ পয়সা, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৩৯ পয়সা। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়ায় ১ টাকা ১৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৪ পয়সা।

২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৭ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৭ টাকা ২৭ পয়সা।

ছয় মাসের অবনতির কারণ:
ছয় মাসের আর্থিক ফলাফলের অবনতির কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় ব্যাপকভাবে কমেছে এবং অর্থায়ন ব্যয় বেড়েছে। ফলে শেয়ারপ্রতি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ সংগ্রহ কমেছে, সরবরাহকারীদের পরিশোধ ও অর্থায়ন ব্যয়ের অনুপাত বেড়েছে। ফলে পরিচালন ব্যয় কমলেও নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকের চিত্র:
২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫২ পয়সা, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ২৫ পয়সা। ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৩২ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৯ পয়সা।

২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুন ছিল ১৮ টাকা ৪৬ পয়সা।

প্রথম প্রান্তিকের ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যায় কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিপরীতে উপকরণের ব্যয় বাড়ায় বিক্রয়কৃত পণ্যের ব্যয় স্থিতিশীল থেকেছে, ফলে মোট মুনাফার হার কমেছে। পরিচালন ব্যয় সামান্য উন্নতি করলেও অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিট মুনাফায় বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

নগদ প্রবাহ প্রসঙ্গে কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ সংগ্রহ তুলনামূলক ভালো ছিল। অর্থায়ন ব্যয় বেশি হওয়া সত্ত্বেও প্রাপ্ত নগদের তুলনায় পরিচালন ব্যয় ও গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ আনুপাতিকভাবে কমেছে। ফলে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

 

 

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged