নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আরোপিত ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৫ হাজার টাকার জরিমানা মওকুফের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে জরিমানা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তবে এ আবেদনের বিষয়ে কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডিএসই সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী, ২০২৩ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী এবং ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হয় প্রাইম ফাইন্যান্স। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
জরিমানা মওকুফের আবেদনে প্রাইম ফাইন্যান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ (এফআইসিএল) থেকে পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ‘কুইক সামারি’ পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০২১-২২ ও ২০২৩ সালের এজিএম সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে আগের বছরের এই জটিলতার প্রভাব পরবর্তী সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও পড়ে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাইম ফাইন্যান্সের দাবি, আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত ও জমা দিতে যে বিলম্ব হয়েছে, তার পেছনে এফআইসিএলের পরিদর্শন কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা অন্যতম কারণ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এই বিলম্ব কোনোভাবেই ইচ্ছাকৃত ছিল না।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ খেলাপি ঋণ, বড় অঙ্কের ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসান এবং মূলধনের ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা এবং মূলধন পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় প্রাইম ফাইন্যান্সও রয়েছে।
এমন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেই নির্ধারিত সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও জমা দিতে না পারার কারণে ডিএসইর জরিমানার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এবার ওই জরিমানা থেকে অব্যাহতি পেতে বিএসইসির কাছে আবেদন করেছে কোম্পানিটি।
প্রাইম ফাইন্যান্সের আর্থিক দুরবস্থার প্রভাব কোম্পানিটির শেয়ারবাজার অবস্থানেও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ডিএসইর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। ২০১৯ অর্থবছরের পর থেকে কোম্পানিটি আর কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি।
২০২৩ অর্থবছরে প্রাইম ফাইন্যান্সের লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫১ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৮৫ পয়সা।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক ৩৯ পয়সা। সর্বশেষ শেয়ারটি ২ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।
আগস্ট ২০২৬-এর মালিকানা তথ্য অনুযায়ী, প্রাইম ফাইন্যান্সের মোট শেয়ারের ৫৯ দশমিক ১৪ শতাংশ রয়েছে স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে ৩৬ শতাংশ শেয়ার। অবশিষ্ট শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে।
এ বিষয়ে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ লাকিয়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এখন বিএসইসির কাছে দেওয়া আবেদনটি পর্যালোচনার পর কমিশন জরিমানা মওকুফ করে কি না, নাকি এ বিষয়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয়—সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।


